খাদ্য মজুদের হুজুগ নিয়ন্ত্রণ করুন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খাদ্য মজুদের হুজুগ নিয়ন্ত্রণ করুন

সম্পাদকীয় ৬:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০

print
খাদ্য মজুদের হুজুগ নিয়ন্ত্রণ করুন

করোনা ভাইরাসে টালমাটাল বিশ্ব। মানুষের জীবন-মৃত্যু হুমকির মুখে। ভেঙে পড়ছে রাষ্ট্রীয় সার্বিক ব্যবস্থা। এদিকে বাংলাদেশে এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হুজুগে অনেকেই খাদ্য মজুদে মনোযোগ দিয়েছেন! ভোক্তাদের এমন মজুদের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাজারে।

এ বিষয়ে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। করোনায় আতঙ্কিত হয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেখতে পাচ্ছি কিছু লোক সমানে জিনিসপত্র কিনে মজুদ করছেন বা ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। টেলিভিশনে দেখলাম একজন ৩০ কেজি লবণ কিনে ফেলেছেন! এই ৩০ কেজি লবণ উনি কতদিনে খাবেন, আমি জানি না। আর সেটা দিয়ে উনি কী করবেন!

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে গতকাল খোলা কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পেঁয়াজের একবার দাম বাড়ার কারণে অনেকে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে মজুদ করেছিলেন। ফলাফল এ হয়েছিল সেগুলো পঁচে যাওয়াতে ফেলে দিতে হয়েছিল। কাজেই আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে যার যতটুকু প্রয়োজন, সেইটুকু আপনারা সংগ্রহ করেন।

এইভাবে যদি বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, বাজার তখন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়। যার টাকা আছে সে তো কিনতে পারছে, কিন্তু যারা সীমিত আয়ের, তাদের পক্ষে তো এত কেনা সম্ভব না। কাজেই অন্যকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার অধিকার কারও নাই। এখনও ১৭ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য শুধু সরকারি গুদামেই আছে। সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমাদের মজুদ আছে। এছাড়াও বেসরকারি আমাদের যে সমস্ত রাইস মিলগুলো আছে, তাদের কাছেও প্রচুর খাদ্য মজুদ আছে। তাছাড়া আমাদের ক্ষেতের ফসল আছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আমাদের যে রিজার্ভ আছে, তাতে অন্তত এক বছরের খাবার ক্রয় করার মতো সামর্থ্য আছে। কাজেই সেদিক থেকেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজার সহনীয় রাখতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

বিদেশফেরত ব্যক্তিদের আমরা এটুকু বলব যে তাদের নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা, স্ত্রী, ভাই-বোন তাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য অন্তত ১৪টা দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ জনগণ কেউ যেন সংক্রমিত না হয় সে ব্যাপারে তাদের নিজেদেরকেই সতর্ক থাকতে হবে।

দেশবাসী বাইরে ঘোরাঘুরি না করে যতদূর সম্ভব নিজের ঘরে থাকেন, আর নিজেকে সুরক্ষিত রাখেন। সবচেয়ে দুঃখজনক যে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব, অনেক কর্মসূচি আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও যেখানে লোক সমাগম হবে সেটাও বন্ধ করে দিয়েছি। 

আগামীতেও জনসমাগমের মতো অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হবে বলে ইঙ্গিত দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিশেষ করে ২৬ মার্চ আমাদের পুষ্পমাল্য অর্পণের কথা সাভার স্মৃতিসৌধে লোক সমাগম বন্ধ করে দিতে হবে। যাতে কোনোভাবে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। সংশ্লিষ্টদের উচিত, খাদ্য মজুদদারকে নিরুৎসাহিত করা। পাশাপাশি যেসব অসৎ ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের আইনের আওতায় আনা।