গতিশীলতা ফিরুক উন্নয়ন কাজে

ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০ | ১৪ চৈত্র ১৪২৬

গতিশীলতা ফিরুক উন্নয়ন কাজে

সম্পাদকীয় ৬:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০

print
গতিশীলতা ফিরুক উন্নয়ন কাজে

অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে অনেক প্রকল্পই মুখ থুবড়ে পড়ে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলেও উন্নয়নমূলক কাজ যথাসময়ে করা হয় না। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারে শহরের প্রধান সড়কের উন্নয়ন কাজ এখনো দাফতরিক প্রক্রিয়ায় আটকা। ভাঙাচোরা সড়কে চলতে দুর্ভোগের শেষ নেই শহরবাসীর। তবে আগামী এপ্রিল মাসে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হতে পারে বলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) একটি সূত্র জানিয়েছে। হলিডের মোড় থেকে বাস টার্মিনাল হয়ে আবার হলিডের মোড় পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল সড়ক জনপথ বিভাগের। কিন্তু ২০১৮ সালে এই সড়কের দায়িত্ব নেয় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে পরিকল্পিত নগরায়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ পায় কউক।

অথচ অদ্যাবধি এর দাফতরিক কাজই শেষ হয়নি। এখনো দরপত্র প্রক্রিয়াতেই রয়ে গেছে। এভাবে আটকে আছে কক্সবাজারের প্রধান সড়কের উন্নয়ন কাজ। ভাঙা সড়কের কারণে জনগণের দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান এলাকাবাসী। যে কারণে সমালোচনা মুখে পড়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সমালোচনা থেকে বাঁচতে সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করতে দেখা যায়। সড়কের বড় বড় গর্তগুলো কেবল ইট আর পাহাড়ি মাটিচাপায় ভরাট করা হয়। কউক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই একনেকের সভায় প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে। গত বছরের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা বলেছিলেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। এমনকি আগামী বর্ষার আগে শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে স্থানীরা।

শহরের প্রধান সড়কের কাজ শুরু করতে সরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রধানদের সঙ্গে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় কউকের সভাকক্ষে সমন্বয় সভা করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্রধান সড়কের পুরোপুরি ডিজাইন, বাস্তবচিত্র, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিদ্যুতের খুঁটি সরানোসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এলাকাবাসী বলছেন, দাফতরিক কাজ সারতেই যদি বছর লাগে তবে কাজ কখন করবে? শহরের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের দৃশ্যে মারাত্মক হতাশা। নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ফেরেন পর্যটকরা। যা সামগ্রিকভাবে পর্যটন শিল্পের উপর বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে কউক চেয়াম্যান লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ বলেন, ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই একনেকের সভায় অনুমোদন লাভ করে। প্রকল্পে নিয়োজিত কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান সড়কের ড্রইং, ডিজাইন করে। প্রক্রিয়া শেষে সড়কের কাজ শুরু করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা যায়। কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয় এ খাতে। গুরুত্ব বুঝে এ এলাকাকে কোনো অবস্থাতেই অবহেলায় রাখা ঠিক নয়। আমরা প্রত্যাশা করব, সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টরা জোর তৎপরতা চালাবেন। উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করবেন যত দ্রুত সম্ভব।