চাল নিয়ে যেন চালবাজি না হয়

ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০ | ১৪ চৈত্র ১৪২৬

চাল নিয়ে যেন চালবাজি না হয়

সম্পাদকীয় ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

print
চাল নিয়ে যেন চালবাজি না হয়

যে কোনো সংকট দুর্যোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। সৃষ্টি করা হয় সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট। অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জনজীবনে। ভোক্তা-ক্রেতার ত্রাহি অবস্থা হয়। বর্তমানে করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মানুষ স্তম্ভিত হয়ে গেছে। থমকে আছে কর্মচাঞ্চল্য। করোনা আতঙ্ক বাংলাদেশেও বিরাজ করছে। এ অবস্থায় খাদ্যশস্যের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তার বরাত দিয়ে গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে যথেষ্ট খাদ্য মজুদ আছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কোনোভাবেই খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নেই। বাজার মনিটরিং নিয়ে গত বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বই আক্রান্ত হয়েছে। চাল ও গম নিয়ে ভোক্তারা যেন আতঙ্কিত না হয়।

কোনো ব্যবসায়ী বা মিলার যদি করোনাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে তাহলে সরকার ও খাদ্য মন্ত্রণালয় চুপ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কে কতটুকু চাল কিনবেন তার পরিমাণ বেঁধে দিলে উল্টো আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নতুন ধান উঠবে। কোনো প্রকার চালের ঘাটতি নেই, অযথা এক মাসের জায়গায় তিন মাসেরটা কেনার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সরকারি গুদামে তিন লাখ ১৯ হাজার টন গমসহ ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। যা গতবারের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ মেট্রিক টন বেশি। এর বাইরে ‘পাইপলাইনে’ রয়েছে আরও দুই লাখ মেট্রিকটন গম। বেসরকারি পর্যায়ে এর কয়েকগুণ মজুদ রয়েছে।

প্রকৃত ব্যবসায়ী ও মিলারদের উচিত মানবতার প্রশ্নে আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে মানুষের আরও সেবা দেওয়া। সেখানে কেউ যদি পুঁজি করে বাড়তি সুবিধার চেষ্টা করে এবং রোজা সামনে রেখে কোনো অবৈধ ব্যবসা যাতে না করতে পারে সে বিষয়ে সচেষ্ট আছি। ওএমএস-এর চাল বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ডিলারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আটা বিক্রি চলছে এবং চলবে, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ব্যবসায়ীরা বাড়তি পুঁজি করতে চাইলে যে ব্যবস্থা নেব তাতে গণমাধ্যমকর্মী আমাদের বাহবাই দেবেন।

সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের জন্য খাদ্য নিয়ে ভোক্তারা যেন আতঙ্কিত না হয়। কোন ব্যবসায়ী, মিলার এটাকে যদি পুঁজি হিসাবে ব্যবহার করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে কোনোক্রমেই সরকার চুপচাপ বসে থাকবে না। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। শুধু মজুদই নয়, ওএমএসে চাল বিতরণের জন্য ডিলারদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তারা চাল বাজারে বিক্রি করবে। পাশাপাশি আমাদের আটার বিক্রয় সবসময় চলছে এবং চলবে। চাল নিয়ে যেন কোনো পক্ষ যেন চালবাজি করতে না পারে, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা উচিত।