করোনায় মৃত্যু; আতঙ্কে সমস্যা কমবে না বরং বাড়বে

ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

করোনায় মৃত্যু; আতঙ্কে সমস্যা কমবে না বরং বাড়বে

সম্পাদকীয় ১০:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

print
করোনায় মৃত্যু; আতঙ্কে সমস্যা কমবে না বরং বাড়বে

করোনার হানা বাংলাদেশে পড়েছে সপ্তাহ দেড়েক আগে। তিনজন আক্রান্ত দিয়ে শুরু এরপর তা বেড়ে ১৪জনে দাঁড়ায়। তবে সবচে’ দু:খজনক ঘটনা হচ্ছে করোনায় প্রাণহানিও ঘটল। গতকাল বুধবার করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির মারা যাওয়ার কথা সরকার জানিয়েছে। চীনে করোনা দেখা দেওয়ার পরই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে করোনার বিস্তার নিয়ে এক ধরনের চিন্তা, উদ্বেগ ও আতংক দেখা দেয়। কেননা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ অনেক বেশি। চীনের হাজার হাজার মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। তারা চীনে যাচ্ছেন আবার আসছেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কও বেশ গতিশীল, চীন থেকে হরেকপণ্য বাংলাদেশে আনছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে চীন আক্রান্ত হওয়ায় মানুষ আসলেই ভীত হয়ে পড়েছিল। এরপর এ রোগের বিস্তার ঘটতে লাগলো। অভিবাসন বা শ্রমশক্তির বিচারে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইতালি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। সে দেশ থেকে বাংলাদেশিরা ফিরে এলে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে এমন আশংকা করা হচ্ছিল। অনেকে ইতালি থেকে ফিরে এসেছেন। এ পর্যন্ত যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই ইতালি ফেরত।

যাই হোক, করোনা এখন যতটা না একটা রোগ তারচে’ অনেক বেশি একটি আতংক। চিকিৎসক আর চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মানুষকে অভয় দিচ্ছেন। আক্রান্তের হারের বিপরীতে মৃত্যুর হারও খুব বেশি নয় কিন্তু মানুষের মনে যে ভয় তাই মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। একজনের মৃত্যুর খবর এ ভয় আর আতংককে আরও বাড়িয়েছে। মানুষ এখন বুঝে কিংবা না বুঝেই আতংকিত হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে আতংকিত হলে কোন লাভ নেই। সারা দুনিয়াই একটা দু:সময় পার করছে, সব দেশই নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত। চিকিৎসা গবেষক, বিজ্ঞানী আর ওষুধ বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য। তবে ওষুধ আবিষ্কার হলেই তো হবে না, তা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ উৎপাদন করা লাগবে তাও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তার অর্থ মানুষের সামনে এখন ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। দু:সময়ে ধৈর্য্য ধরার আসলে কোন বিকল্পও নেই। সব ধর্মেই ধৈর্য্য ধরার বিষয়টিকে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যাই হোক, আমরা মনে করি করোনার ব্যাপারে দেশের মানুষের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা তৈরি হয়েছে। মানুষ ভীড়-ভাট্টা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলছেন। মাস্ক পড়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের দিকে মা-বাবার খেয়াল বেড়েছে। শিশুর গা সামান্য গরম হলেও তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। হাঁচি কিংবা কাশি দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ এখন অনেক বেশি সতর্ক। স্বাভাবিক স্বাস্থ্য চাহিদার বিচারেও এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেশের মানুষের কাছে স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করবো, চলমান অবস্থায় সাবধানে চলুন, সতর্ক থাকুন, তবে আতংকিত হবেন না।