পোশাক শিল্পে অবনতির আশঙ্কা

ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

পোশাক শিল্পে অবনতির আশঙ্কা

সম্পাদকীয় ১০:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

print
পোশাক শিল্পে অবনতির আশঙ্কা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্প। এ শিল্পের মাধ্যমে একদিকে অর্জিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, অন্যদিকে বেকারত্ব লাঘবেও রাখবে বড় ভূমিকা। বর্তমানে এ শিল্প একধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সংকটে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাতে। একের পর এক বাতিল হচ্ছে ক্রয় আদেশ। আসছে না নতুন অর্ডার, বন্ধ হচ্ছে রফতানি। এভাবে চলতে থাকলে পোশাক খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে গতকাল খোলা কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা এখন চীন ছাড়িয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি হলে পোশাক খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। নতুন করে অর্ডার আসছে না। আগের ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা। এতে করে পণ্য শিপমেন্ট বন্ধ হলে সংকটে পড়বেন পোশাক মালিকরা। এভাবে চলতে থাকলে সামনে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে সমস্যা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পোশাক কারখানা রয়েছে চার হাজার ৫৬০টি। যেখানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। দেশের মোট রফতানির পোশাকের অবদান ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এক দশক ধরে দেশের জিডিপি ৬ শতাংশের ওপরে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে এ পোশাক খাত। তাই তৈরি পোশাকের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় কমেছে। অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি শেষে পোশাক রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। একই সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত গভীর সঙ্কটের মধ্যে পার করছে। একের পর এক পোশাক কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে এ খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। অর্ডার কমে যাওয়ায় মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া ইতোমধ্যে তাদের কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। যদি রফতানি বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের ব্যবসাই তো বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আমরা কী করব। আমরা অর্থ সঙ্কটে পড়ব। যা সামাল দেওয়া সম্ভবও না। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এর প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে আমাদের রফতানি বাণিজ্য ভয়াবহ রূপ নেবে। আগের তুলনায় আমাদের ব্যবসা কমে গেছে। এর মধ্যে যদি ক্রয়াদেশ স্থগিত হয় তাহলে বড় সংকটের মধ্যে পড়বে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। পোশাক খাতে ধস নেমে এলে লাখো শ্রমিক যেভাবে সংকটে পড়বেন অন্যদিকে অর্থনীতিতেও নামবে মারাত্মক ধস। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তথা সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।