কলেজে কারিগরি শিক্ষা বেকারত্ব লাঘবে সহায়ক

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

কলেজে কারিগরি শিক্ষা বেকারত্ব লাঘবে সহায়ক

সম্পাদকীয় ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২০

print
কলেজে কারিগরি শিক্ষা বেকারত্ব লাঘবে সহায়ক

শিক্ষিতের হার বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে বাড়ছে বেকারত্বও। দেশে ক্রমবর্ধমান হারে বেকারত্ব বাড়লেও সে অনুযায়ী সৃষ্টি হচ্ছে না কর্মসংস্থান। এটা হতাশার। ফলে সমাজে নেমে আসছে বিশৃঙ্খলা, বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা।

সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সব কলেজে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালুর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কলেজগুলোতে এ কোর্স নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আগেই কথা হয়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভার মিটিংয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

কীভাবে এবং কোন কোন বিষয়ের ওপর কোর্স চালু করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করে তুলতে সরকার কারিগরি শিক্ষাকে উৎসাহ দিতে চায়। আমরাও চাই কারিগরি শিক্ষা আরও এগিয়ে যাক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।

অধিভুক্ত সব কলেজগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ১০ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ট্রেড কোর্স চালু থাকা কলেজগুলোতে এ কোর্স নির্বিঘ্নে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহযোগিতা করতে বলা হয়।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষার্থী ও যুবকদের একটি অংশ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করাসহ ছয়টি দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, বেকার মুক্তি আন্দোলন, জাতীয় যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় গণসমাবেশ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, কর্মসংস্থান ও চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে অহিংস আন্দোলন করে আসছি। এখন মুজিববর্ষ চলছে। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের সব নাগরিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থার কারণে যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ৩০ বছর পার করে ফেলেন, সেসব মেধাবী শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রের উন্নতিতে কাজে লাগাতে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করা একটি যৌক্তিক দাবি। দুঃখের বিষয় দীর্ঘদিন এ যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন করা হলেও সরকার কোনো তোয়াক্কা না করে বেকার শিক্ষিত সমাজকে অপমান, অবহেলা, অবমাননা করছে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি মুজিববর্ষে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে রেখেছিলÑ ক্ষমতায় এলে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেড় কোটি শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার নির্বাচনী ইশতেহার পূরণের জন্য আহ্বান জানাই। বেকারত্ব লাঘবে কলেজে কারিগরি শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ অবশ্যই প্রশংসনীয়। এর পাশাপাশি বেকারদের দাবির যৌক্তিক সমাধানও বাঞ্ছনীয়। সংশ্লিষ্টরা বেকারত্ব নিরসনে এগিয়ে আসবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।