জাহাজ রপ্তানিতে ইতিবাচক আবহ

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

জাহাজ রপ্তানিতে ইতিবাচক আবহ

সম্পাদকীয় ৮:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

print
জাহাজ রপ্তানিতে ইতিবাচক আবহ

রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে দিনকে দিন। একসময় বহির্বিশে^র ক্ষমতাশালীরা ব্যঙ্গ করে এদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যা দিলেও পরিস্থিতি পাল্টেছে। বাংলাদেশ বারবার প্রমাণ করছে- কীভাবে ক্ষুদ্র সামর্থ্যে বিশাল কাজ করা যায়! গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণ ও রপ্তানিতে মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখেছে দেশের জাহাজ নির্মাণশিল্প। অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন চিত্র। অর্থের বিচারে খুব বেশি না হলেও বিশ্ববাজারে এর ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা দেখছেন এ শিল্প সংশ্লিষ্টরা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাহাজ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্ধ-শতকোটি টাকার কাছাকাছি। আট মাসে রপ্তানি হয়েছে ১১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সময়ের জাহাজ রপ্তানি হয়েছিল ৭ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের জাহাজ।

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক বছরের রপ্তানি হয় ৩০ বিলিয়নের ডলারের বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বছরে রপ্তানি যথাক্রমে ১০১৯ মিলিয়ন ডলার এবং পাট ও পাটজাতপণ্য রপ্তানি ৮১৬ মিলিয়ন ডলারের। এমনকি বিভিন্ন ধরনের মৎস্য রপ্তানি থেকেও বছরে আয় হয় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ওপরে। সে হিসাবে জাহাজ রপ্তানি করা আয় টাকার অংকে খুবই নগণ্য, কিন্তু বিশেষায়িত পণ্যটির চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে এবং রপ্তানির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হচ্ছে।

জাহাজ রপ্তানির যাত্রা শুরুর এক দশক পর ২০১৭ সালে কেনিয়ায় একটি উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত জাহাজ রপ্তানি হয়। এরপর জাহাজ নির্মাণশিল্পে নতুন যেসব রপ্তানি আদেশ আসছে, সেগুলোর বেশিরভাগই বিশেষায়িত জাহাজের। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জাহাজ রপ্তানি থেকে আয়ের সিংহভাগই আসবে উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ থেকে। দেশে বিভিন্ন সময়ে হালকা প্রকৌশল, হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও পরে তা হোঁচট খায়। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যও চলছে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এ অবস্থায় জাহাজ নির্মাণ শিল্পটি সামনে এসেছে নতুন সম্ভাবনা হয়ে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজ রপ্তানি শিল্পের যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে- এ শিল্পও এ সমস্যার আবর্তে রয়েছে। সব কাঁচামালই বিদেশ থেকে আমদানি করা লাগছে। এভাবে শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়। পাশাপাশি আমাদের উদ্যোক্তাদের নীতি-নিষ্ঠারও ঘাটতি রয়েছে। এক শিল্পের জন্য ঋণ নিয়ে আরেক কাজ করে। এর ফলে আর্থিক তহবিল ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টানাপড়েন তৈরি হয়। যা এই শিল্পের ক্ষেত্রে হচ্ছে। আমরা মনে করি, প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে চলমান এ ধারাকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রপ্তানি খাতকে আরও এগিয়ে নেবেন বলেই প্রত্যাশা।