গণপরিবহন হোক জনবান্ধব

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

গণপরিবহন হোক জনবান্ধব

সম্পাদকীয় ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৯, ২০২০

print
গণপরিবহন হোক জনবান্ধব

গণপরিবহন নিয়ে একধরনের ভোগান্তিতে রয়েছে রাজধানীবাসী। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়কের সমস্যা, অন্যদিকে সমাধানের আলামত নেই বললেই চলে! ঢাকা শহরকে পথচারী ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহন বাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ঢাকাবাসীর জীবনের অর্ধেকটা সময় চলে যায় সড়কে। জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা ও ফুটপাত না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। জনবান্ধব গণপরিবহন বাড়ানো গেলে ব্যক্তিগত গাড়ি কমে যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ি কমাতে ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ শর্তারোপের ওপরেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ঢাকায় চলাচলকারী মানুষ প্রত্যেকেই একটি রোগের শিকার। সেটা হচ্ছে যানজট, জনবান্ধব ফুটপাত না থাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ানো। এ রোগে মুক্তির একমাত্র স্থায়ী ওষুধ হচ্ছে ঢাকাকে গুরুত্বহীন করা। এছাড়া ঢাকাকে বাসযোগ্য করা সম্ভব নয়। বাসযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে বাংলাদেশ। আমরা সরকারের সঙ্গে পার্টনারশিপের মতো করে কাজ করতে পারি, চাপ দিতে পারি। কিছু জনবান্ধব কাজ করার ক্ষেত্রে বাধ্য করতে পারি। যে কোনো সমস্য সমাধানের ক্ষেত্রে বাধার মুখোমুখি হচ্ছি। ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের অবস্থা এলার্মিং, অন্য কোনো দেশ হলে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হত। এমন অবস্থার মধ্যেও আমরা সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছি না।

এ বিষয়ে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় খোলা কাগজে। অতিথিদের বরাত দিয়ে তাতে বলা হয়, ঢাকা শহরে অত্যন্ত ব্যয়বহুল সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেট্রোরেল করবেন করেন সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন এ সরকারের টানা ১২ বছরের ক্ষমতায় জনবান্ধব গণপরিবহনের জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শূন্যের ওপরে মেট্রোরেল করছেন, এখন আবার ২৪০ কিলোমিটার সাবওয়ে করতে চাইছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার করা হচ্ছে। কিন্তু হাঁটার জন্য পথচারীবান্ধব ফুটপাত দেখি না। উন্নয়ন ধনীদের জন্য নয়, উন্নয়ন সাধারণদের জন্য। আগামী ঢাকা যদি গণপরিবহনবান্ধব হয় তাহলে পার্কিং নীতিমালায় পার্কিং স্পেস রাখার বাধ্যবাধকতা বিপরীত সিদ্ধান্ত। কোনোভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং নীতিমালায় রাখা যাবে না।

বক্তারা আরও বলেন, ঢাকা শহর আজব শহর। এ শহরের স্পেস অনুযায়ী যে পরিমাণ ব্যক্তিগত গাড়ি চলে তা অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। ফুটপাতে হাঁটার চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলকে গুরুত্ব দিলে এ শহরে আগামী ২০ বছর পর দুর্ভোগ বাড়বে। সরকার যে ইমারত নীতিমালা করেছে সেটা গোঁজামিলের নীতিমালা। ব্যক্তিগত গাড়ি যখন নিয়ন্ত্রণ করে গণপরিবহনকে প্রমোট করার কথা সেখানে এই ২০২০ সালে এসেও ইমারত বিধিমালায় গাড়ি থাক না থাক পার্কিং বাধ্যতামূলক করার বিধি গোঁজামিল ছাড়া আর কী হতে পারে। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলে বাঁচবে কর্মঘণ্টা, সামষ্টিকভাবে লাভবান হবে রাষ্ট্র।