ক্রিকেট অধিনায়কের স্মরণীয় বিদায়

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

ক্রিকেট অধিনায়কের স্মরণীয় বিদায়

সম্পাদকীয় ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০২০

print
ক্রিকেট অধিনায়কের স্মরণীয় বিদায়

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজা হয়ে উঠেছিলেন অনন্য এক নাম! তার এমন ক্রীড়ানৈপুণ্য, গ্রহণযোগ্যতা ও খ্যাতি একদিনে আসেনি ধীরে ধীরেই নিজেকে সেই স্তরে উত্তীর্ণ করেছিলেন তিনি। অবশেষে তিনি যখন ক্রিকেট অধিনায়ক থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিলেন, লাখো ক্রীড়াপ্রেমীসহ তার সতীর্থ খেলোয়াড়রা এতে মনোক্ষুন্ন হলেও অবাক হয়নি।

এরকম একটি ঘোষণা আসতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নড়াইল এক্সপ্রেস ইতোমধ্যেই আভাস পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে জয়ের আনন্দ অন্যদিকে বিদায় বিউগলের সুর। দিনভর উৎসবে থাকা সিলেট স্টেডিয়ামের চিত্র এভাবেই হঠাৎ বদলে যায়। সবার মাঝে কেমন যেন এক আবেগী কান্না। যা দেখা যায় না, শুধুই অনুমেয়। প্রকৃতিঘেরা পুণ্যভূমিতে মাশরাফির নেতৃত্বের বিদায় ক্ষণটা ছিল ঠিক এমনি।

মাঠের বাইরে ও ভেতরের মাশরাফিতে ছিল না ভিন্নতা। সব সময় অনুজদের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতেন। কঠিন সময় মোকাবেলার সাহস জোগাতেন। মাশরাফি মাঠে থাকা মানেই অন্য রকম এক ভরসা খুঁজে পাওয়া। গত শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জিম্বাবুয়েকে দুমড়ে মুচড়ে তারা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করলেন। লিটন-তামিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তৃতীয় এই ম্যাচে সফরকারীদের হারালেন ১২৩ রানের বড় ব্যবধানে।

এমন একটি জয়ের দিনে মাশরাফিকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সতীর্থরা। কাঁধে তুলে তাকে নিয়ে গেলেন মাঠের বাইরে। পুনরায় সবাই মাঠে প্রবেশ করলেন মাশরাফির দুই নম্বর জার্সিটি গায়ে, আর তাতে লেখা ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’বাক্যটি। এটি স্রেফ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একে একে প্রশংসা করলেন অভিভাবকতুল্য অধিনায়কের। সবার প্রশংসায় কণ্ঠজুড়ে আসছিল মাশরাফিতে।

অধিনায়ক হিসেবে নিজের বিদায়ী ম্যাচটি খেলতে নেমে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরেছেন মাশরাফি। জিম্বাবুয়ে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, বাংলাদেশকে পাঠায় ব্যাটিংয়ে। ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেন বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। দু’জনই আগের দুই ম্যাচে খেলেছেন দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরির ইনিংস। প্রথম ম্যাচে লিটন অপরাজিত ১২৬ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম খেলেন ১৫৮ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের দুই ওপেনারই এদিন একই সঙ্গে জ্বলে ওঠেন।

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির শুরুটা যেমন রাজসিক ছিল, শেষটাও তাই। শুক্রবারের ম্যাচটি যে খেলার বাইরেও ভিন্ন কিছু তা জানা ছিল আগেই, অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির শেষ ম্যাচ। মাশরাফিকে জয় দিয়ে বিদায় দেওয়াটাই ছিল বড় উপহার কিন্তু তারপরও তার দীর্ঘদিনের সতীর্থরা আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে রেখেছিল। মাশরাফিকে কাঁধে নিয়ে মাঠে ফিরলেন টাইগাররা। মাশরাফির বিদায়টাও রাজসিক, বিজয়ীর বেশে খুলে রাখলেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের এ অধিনায়ককে বিদায় জানাতে সম্ভবত সারা দেশই বলেছে- তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক! সংসদ সদস্য হয়ে জনসেবার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিভিন্ন সময়ে কল্যাণমূলক কাজ করে আলোচিত ছিলেন তিনি। নতুন অধিনায়ক হিসেবে যিনি দায়িত্ব নেবেন তাকে আগাম অভিনন্দন। তার প্রতি আমাদের চাওয়া একটাইÑ তিনিও যেন মাশরাফির পথ অবলম্বন করে ক্রিকেট জনপ্রিয় করেন, এর মাধ্যমে উজ্জ্বল করেন বাংলাদেশের মুখ!