পাটের নতুন সম্ভাবনা

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

পাটের নতুন সম্ভাবনা

সম্পাদকীয় ১২:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০২০

print
পাটের নতুন সম্ভাবনা

এককালে পাট ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জনকারী খাত। গুরুত্ব বিবেচনায় পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। কালের ব্যবধানে সেই ঐতিহ্য ধুলোচাপা পড়েছে। সুখের বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে পাট ফিরছে নতুন সম্ভাবনায়। সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের। অন্য উদ্ভিদের চেয়ে পাট গাছ থেকে বেশি অক্সিজেন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। পাট শাক থেকে শুরু করে ছাল-বাঁকল, কাঁচা পাট সবকিছুই ব্যবহার করা যায়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও পাটগাছের ভূমিকা অনন্য। এ মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, মাত্র তিন মাসে পাট উৎপাদন করা সম্ভব। এক বিঘা জমির পাট ২৭ মেট্রিক টন অক্সিজেন সরবরাহ করে। একটি রুমে পাট দিয়ে ডেকোরেশন করা থাকলে কেউ ধূমপান করলেও পরিবেশবান্ধব থাকবে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পাট দিবসের এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব পাটের নানাবিধ ব্যবহার ও উপকার নিয়ে কথা বলেন পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

জৈব ভেষজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাট পাতার গুরুত্ব দিয়ে সচিব বলেন, পাট পাতার পানীয় পরীক্ষিত। এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। জার্মানি থেকে আমরা সনদ পেয়ে যাব, তখন ব্যাপকভাবে মার্কেটিং করব। ইতোমধ্যে আমরা ৫০ লাখ টাকার পাট পাতা কিনেছি। জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পাটপণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে পাটকাঠি থেকে চারকোল, কম্পোজিট জুট টেক্সটাইল, পাটপাতার পানীয় উৎপাদন, জুট জিও-টেক্সটাইল, পলিথিনের বিকল্প ‘সোনালি ব্যাগ’ উৎপাদনের মাধ্যমে পাট খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। পাটের বিকল্প সোনালি ব্যাগ আগামী দুই মাসের মধ্যে এক লাখ পিস সরবরাহ করবে। বাজারের চাহিদা ১০-২০ লাখ পিস। এটা নিয়েও কাজ হচ্ছে।

পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, গত পাট উৎপাদন মৌসুমে দেশে ৭৪ দশমিক ৪৬ লাখ বেল কাঁচাপাট উৎপাদন হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৬১৬ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। গত বছর ছিল ৪৮২ কোটি মিলিয়ন ডলার ছিল। আমরা পলিসি মেকার, পাটের চাহিদা বাড়ছে। আরও অনেক প্রাকৃতিক তন্তু আসছে। তারা যেন মার্কেট নিতে পারে। সেজন্য চেষ্টা করেছি পাটকে কীভাবে বহুমুখী ব্যবহার করা যায়। আমি এসে প্রথমবারেই এত বেড়েছে। জুট ডাইভার সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেপিডিসি) মাধ্যমে ৭০০ উদ্যোক্তা ২৮২ প্রকার দৃষ্টিনন্দন পাটপণ্য উৎপাদন করছে, যার অধিকাংশই বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে ৫২টি দেশে পাটপণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালে উন্নয়ন জংশন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশ জাতির পিতার সোনার বাংলা, ২০৭১ সালে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ, ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যান (নিরাপদ ব-দ্বীপ) ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সার্বিক পাট খাত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্টরা সচেষ্টা থাকবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।