বন্ধ হোক স্থলবন্দরের দুর্নীতি

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

বন্ধ হোক স্থলবন্দরের দুর্নীতি

সম্পাদকীয় ১০:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

print
বন্ধ হোক স্থলবন্দরের দুর্নীতি

স্থলবন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ পুরনো। এসব দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব নানাভাবেই পড়ে জনজীবনে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক টিম বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (স্থলবন্দরগুলো) ১৪টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৮ দফা সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। গত বুধবার সচিবালয়ে গিয়ে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর হাতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে দেন দুদকের কমিশনার মোজাম্মেল হক খান। এরপর তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর বা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধানের পদ্ধতিগত ত্রুটি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব এবং জনবল সংকটের কারণে যেসব দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি হয় এর উৎস চিহ্নিতকরণসহ এ উৎসগুলো বন্ধে বা প্রতিরোধে বাস্তবতার নিরিখে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে সেই বিষয়ে সুপারিশ দিতে ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়।

স্থলবন্দরগুলোর আইন, বিধি, পরিচালন পদ্ধতি, সরকারি অর্থ অপচয়ের দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে এ প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সুপারিশ দিতে কমিশনের একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একজন উপ-পরিচালক এবং একজন সহকারী পরিচালকের সমন্বয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়। এ প্রাতিষ্ঠানিক টিম অনুসন্ধানকালে স্থলবন্দরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে যারা সম্যক ধারণা রাখেন তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করেন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক টিম স্থলবন্দরগুলোর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন দৈনিক পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যসহ ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিবৃতি, নিরীক্ষা ও অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দুর্নীতির উৎস ও ক্ষেত্র চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে সুপারিশমালা প্রতিবেদন আকারে কমিশনে দাখিল করে।

সড়কপথেও চাঁদাবাজির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহী থেকে ঢাকায় যেতে ট্রাক চালকদের অন্তত ১৬টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। এতে বলির পাঁঠা হন ব্যবসায়ীরা। কারণ চাঁদার টাকা চালকরা ভাড়ার টাকার সঙ্গে আদায় করে নেন। রাজশাহীর বিভিন্ন আড়ৎ থেকে মাছ এবং সবজি নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ঢাকায় যান। এতে কয়েকটি স্থানে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা নেওয়া হলেও বেশিরভাগ স্থানেই টাকা আদায় করে পুলিশ।

এসব স্পটে কমপক্ষে ৫০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় তাদের। আবার মামলার ভয় দেখিয়ে কখনো কখনো এক স্থানেই আদায় করা হয় ৫০০ টাকা। মাছ ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর পশ্চিমপ্রান্ত কাশিয়াডাঙ্গা মোড় থেকেই চাঁদা আদায় শুরু হয়। কিছু দূর না আসতেই আমচত্বর এলাকায় আবার চাঁদা দিতে হয়। খড়খড়ি আড়ৎ থেকে গাড়ি ছেড়ে পুঠিয়া উপজেলায় প্রবেশের আগেই বেলপুকুর সড়কের যে কোনো ফাঁকা স্থানে চাঁদা দিতে হয়। সেখানে পুলিশ দাঁড়িয়েই থাকে। এরপর পুঠিয়া উপজেলা সদর, নাটোরের তেবাড়িয়া মোড়, কাছিকাটা, চৌরাস্তা মোড় ও বনপাড়ায় চাঁদা দিতে হয়। আমরা মনে করি, স্থলবন্দর ও সড়কের দুর্নীতি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। এসব চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করা গেলে ভোক্তাসহ সাধারণ মানুষ এ সুফল পাবে।