সঞ্চয়পত্রে মুনাফা হ্রাস হতাশাজনক

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

সঞ্চয়পত্রে মুনাফা হ্রাস হতাশাজনক

সম্পাদকীয় ৮:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

print
সঞ্চয়পত্রে মুনাফা হ্রাস হতাশাজনক

ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দেশের অনেকেরই সংসার চালানোর অন্যতম উৎস। কেউ কেউ শুধু এটার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। অবশেষে সেখানেও হাত পড়েছে; সঞ্চয়ীরা সরকারের এ সিদ্ধান্তে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কিনে গ্রাহক এতদিন যে পরিমাণ মুনাফা পেতেন তার প্রায় অর্ধেক পাবেন এখন থেকে। এতদিন তিন বছর মেয়াদে এ সঞ্চয়পত্র কিনে গ্রাহক মুনাফা পেতেন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর এখন থেকে পাবেন ৬ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন গত বৃহস্পতিবার জারি করা হয়েছে। কার্যকর হয়েছে ওই দিন থেকেই। সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ কমাতে এ খাতে বিনিয়োগে নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ বাড়ানোর পর এবার ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে সরকার। নতুন প্রজ্ঞাপনে তিন বছর মেয়াদে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ। আগে যা ছিল ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। দুই বছর মেয়াদের সঞ্চয়পত্রে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ।

আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। এছাড়া এক বছর মেয়াদে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ। আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের সঞ্চয়পত্র ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে থাকলেও এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর। সব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। নাবালকের পক্ষেও এ সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।

বিভিন্ন পক্ষের দাবিতে সঞ্চয়পত্রের সুদহার না কমিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ডাকঘরের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানোর পেছনে সংশ্লিষ্টদের একধরনের ভাবনা ছিল। কিন্তু এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যাদের আয়ের বিকল্প উৎস নেই, শুধু সঞ্চয়ত্রের ওপরই নির্ভরশীল। মুনাফা হ্রাস তাদের জন্য বয়ে এনেছে হতাশা ও উদ্বেগ।