করোনা ভাইরাসে যেন সংকট সৃষ্টি না হয়

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

করোনা ভাইরাসে যেন সংকট সৃষ্টি না হয়

সম্পাদকীয় ৭:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

print
করোনা ভাইরাসে যেন সংকট সৃষ্টি না হয়

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশেও নীরবে-সরবে চলছে একধরনের উৎকণ্ঠা। সরকার এ বিষয়ে সতর্ক। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে আমদানি করা কাঁচামাল ও রপ্তানিযোগ্য পণ্যের জাহাজীকরণ পিছিয়ে পড়ায় বেকায়দায় পড়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

এ ভাইরাসের কারণে চীন থেকে পণ্য না আসায় কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছেন তারা। চট্টগ্রামে চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে কাজ করছেন কয়েকশ’ চীনা নাগরিক। করোনা ভাইরাস ঘিরে তাদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বন্দরে আসা নাবিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামে বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ। বর্তমানে এ প্রকল্প কর্মরত আছেন ২২৮ চীনা নাগরিক। এর মধ্যে নববর্ষের শুরুতে তাদের বড় উৎসবে ৭০ জন চীনে গিয়ে এখনো ফিরতে পারেননি।

এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী রয়েছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ঘুমধুম রেল সংযোগ প্রকল্পের অধিকাংশ প্রকৌশলী চীনে ছুটিতে গিয়ে আটকা পড়েছেন। মিরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৮৫ চীনা নাগরিকের মধ্যে ১৬৮ জন চীনে আটকা পড়েছেন। চট্টগ্রাম ইপিজেডের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত ৭০ জনের মধ্যে ৬৮ জন চীনে ছুটিতে গিয়ে আটকে আছেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পে ৪৩৮ জন চীনা নাগরিক কাজ করছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আটকে পড়েছেন চীনে। চীনা সংস্কৃতিতে নববর্ষ উপলক্ষে এক সপ্তাহের বেশি ছুটি থাকে। ছুটি শেষ হওয়ার আগে করোনা ভাইরাসের কারণে এ ছুটি দীর্ঘ হয়ে যায়। এতে আটকা পড়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা কাঁচামালসহ নানা পণ্য। ফলে দুশ্চিন্তায় আছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, ভাইরাস শনাক্তের পরও বন্দরমুখী জাহাজের কমতি নেই। জাহাজ আসছে। আমরা বার্থিং দিচ্ছি। চীন থেকে জাহাজ আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিক্লারেশন দেওয়া হবে। যত রকম সতর্ক ব্যবস্থা আছে চট্টগ্রাম বন্দর ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা করছি। সরকার ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ভাইরাস যেন কোনোভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে সে বিষয়েও সতর্কতা জরুরি।