জুয়া নিষিদ্ধ, ফিরুক সুচেতনা

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

জুয়া নিষিদ্ধ, ফিরুক সুচেতনা

সম্পাদকীয় ৯:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

print
জুয়া নিষিদ্ধ, ফিরুক সুচেতনা

সব ধরনের জুয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন আদালত। এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। গত বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত শুদ্ধি অভিযানে বেরিয়ে ক্যাসিনোসহ অনেক কেলেঙ্কারির সংবাদ। জুয়া আদিম নেশা হলেও বাংলাদেশে এর এমন বিস্তৃতি ঘটেছে অভিযানের আগে তা ছিল একেবারেই অবিশ্বাস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিন্দনীয় জুয়ার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়। এ জুয়ার কারণে শহর-গ্রামে সবখানে অশান্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রাম্যজীবনে জুয়া নিয়ে মারামারি, খুনাখুনি এমনকি তালাকের ঘটনাও ঘটে আকছার।

গত সোমবার ঢাকার অভিজাত ১৩ ক্লাবসহ সারা দেশে সব ধরনের জুয়া খেলাই নিষিদ্ধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি দেশের কোথাও জুয়ার উপকরণ পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা জব্দেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বেঞ্চের এ রায়ে বলা হয়, যেসব খেলার ফলাফল দক্ষতার বদলে ‘চান্স’ বা ভাগ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়, তাই জুয়া খেলা। লটারি ছাড়া হাউজি, ডাইস, ওয়ান টেন, চরচরির মতো অন্যান্য খেলা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। এগুলো আইনত নিষিদ্ধ। এ ধরনের খেলার অনুমতি, আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিও নির্দেশ দেন আদালত।

জুয়া খেলায় অভিযোগ নিয়ে আদালতে উল্লিখিত অভিজাত ১৩ ক্লাব হচ্ছে- ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, বনানী ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, সিলেট ক্লাব ও খুলনা ক্লাব। এর আগে, সারা দেশের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে ইনডোর গেমের নামে ডাইস ও হাউজি খেলার আয়োজন চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী মোহাম্মদ সামিউল হক ও রুকন উদ্দিন মো. ফারুক ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টে এক রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে ১৩টি ক্লাবে অর্থের বিনিময়ে অভ্যন্তরীণ খেলার আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

অন্যদিকে ঢাকা ক্লাবের লিভ টু আপিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে রুল নিষ্পত্তির আদেশ দেওয়া হয়। গত ২৩ জানুয়ারি রুল শুনানি শেষে বিষয়টি ২৮ জানুয়ারি রায়ের জন্য রাখা হলেও তা পিছিয়ে যায়। সোমবারের রায়ে রুলটি যথাযথ ঘোষণা করা হয়। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা জুয়া রোধে কঠোর অবস্থান নিলে সৃষ্টি করা যাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। জুয়া বন্ধ করে জুয়াড়িরাও ইতিবাচক কাজে মনোযোগ দেবেন। এতে সার্বিক ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হতে পারে দেশে। কলঙ্কজনক এ নেশা থেকে দ্রুত দেশ বেরিয়ে আসবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।