উন্নয়ন কাজে ব্যয়বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

উন্নয়ন কাজে ব্যয়বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়

সম্পাদকীয় ৯:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০

print
উন্নয়ন কাজে ব্যয়বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ হয় না। অনেক প্রকল্প নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। অথচ এটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যথাসময়ে শেষ করলে সবাই উপকৃত হতো। দেশও এগিয়ে যেত কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। রোববার খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়- ড্রয়িং, ডিজাইন, ব্যয় প্রাক্কলন ও সময়মতো শুরু করতে না পারায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বাড়ছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারলে ২০২০ সালে প্রকল্প শেষ হতো এবং ব্যয় হতো ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পুনর্নির্ধারিত সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-আরডিপিপি অনুযায়ী ব্যয় বাড়বে ১৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যা মোট খরচের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের বৈঠকে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বিস্তারিত উঠে আসে। ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্প কার্যক্রমটি ১৩ অংশ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি কাজের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ব্যয় প্রাক্কলন পেতে দেরি হওয়ার কারণে কাজটি সময়মতো শুরু না হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি পায় ১৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ড্রয়িং ও ডিজাইন হতে দেরি হওয়া ভবনগুলো হলো সুইমিং পুলসহ জননেত্রী শেখ হাসিনা হল, শহীদ এইচ এম কামরুজ্জামান হল, বিজ্ঞান ভবন (২০ নম্বর) ও শিক্ষক কোয়ার্টার।

২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ক্রম পুঞ্জীভূত আর্থিক অগ্রগতি মেলে মোট ব্যয়ের ১৩ ভাগ। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীকালে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনা দিলেও সেখানে বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতি বছর বেড়ে চলছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা। সার্বিক দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, ছাত্রাবাস নির্মাণ ও পাঠদানের সুবিধা বাড়াতে একনেক এ প্রকল্প অনুমোদন করে। বিদ্যমান শ্লথগতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা। দীর্ঘসূত্রতা যেন প্রকল্পের কাজে ধোঁয়াশা সৃষ্টি না করে- এটা নিশ্চিত করতে হবে।