বিদেশ গমনে নিবন্ধন প্রশংসনীয়

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

বিদেশ গমনে নিবন্ধন প্রশংসনীয়

সম্পাদকীয় ৬:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২০

print
বিদেশ গমনে নিবন্ধন প্রশংসনীয়

প্রবাসীরাই নানাভাবে চালু রেখেছে অর্থনীতির চাকা। অথচ তারাই বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। বিদেশ-বিভুঁইয়ে যেসব তাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে, সেখানে স্থানীয় রাষ্ট্রদূতরাও যথাযথভাবে সহযোগিতা করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে কয়েকটি দেশে যেভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানারকম সমস্যায় ফেলা হচ্ছে তা আশঙ্কার বিষয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায়ই সর্বস্ব হারিয়ে শ্রমিকরা দেশে ফিরছেন এমন খবর মিলছে। এমন অবস্থায় এল সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপের সংবাদ।

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে আগ্রহী দক্ষ, স্বল্পদক্ষ, অদক্ষ ও পেশাজীবী নারী-পুরুষের নিবন্ধন শুরু হল আজ রোববার থেকে। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ৬১ জেলায় এ নিবন্ধন শুরু হল। আগ্রহীদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২০০ টাকা পাঠিয়ে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিবন্ধনকারীর যোগ্যতা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিবন্ধনকারী কর্মীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ওপরে হতে হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী হিসেবে যেতে ইচ্ছুকের বয়স ২৫-৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিবন্ধনকারীর অন্তত ছয় মাসের বৈধ পাসপোর্ট ও নিজস্ব মোবাইল থাকতে হবে।

নিবন্ধনের আপডেট তথ্য মাঝেমধ্যে তাকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই নিবন্ধন শুরুর পরে যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি দফতর বা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে।

নিবন্ধনের সময় সব যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা সনদ ডাটাব্যাংকে সংযোজন করতে হবে। তবে ডাটাব্যাংকে নিবন্ধন কোনোভাবেই নিবন্ধনকারীর বিদেশ যাওয়া নিশ্চিত করবে না। এ নিবন্ধনের মেয়াদ হবে দুই বছর। তাই এ সময়ের মধ্যে কোনো যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা অর্জিত হলে তা ডাটাব্যাংকে সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধনকারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকার কাজের ব্যবস্থা করবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের দেড়শ’র বেশি দেশে বর্তমানে বাংলাদেশিরা কর্মরত। উন্নত রাষ্ট্র ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায়ও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস। প্রবাসী শ্রমিকদের সরকারিভাবে নিরাপত্তা বিধান করা জরুরি। আমরা মনে করি, এ উদ্যোগ যথাযথভাবে কার্যকর হলে তা একদিকে হবে শ্রমিকবান্ধব অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্যই বয়ে আনবে কাক্সিক্ষত সাফল্য।