অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করুন

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করুন

সম্পাদকীয় ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

print
অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করুন

দেশে বেকারত্বের ঘানি টানছেন অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ, অনেকেই জীবনযুদ্ধ মোকাবেলায় পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। অর্থনীতিসহ নানাভাবেই জেরবার হচ্ছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতেও অসংখ্য বিদেশি অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশি কর্মীদের উপার্জিত ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে বছরে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে বিষয়টি।

গত বুধবার রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয় একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, বৈধ ও অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ বিদেশি কর্মী কাজ করেন। যার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী বৈধ কর্মী ৯০ হাজার। তাদের ন্যূনতম গড় মাসিক বেতন দেড় হাজার মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে বিদেশি কর্মীদের বার্ষিক আয় চার দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৩০ শতাংশ স্থানীয় ব্যয় বাদে প্রায় তিন দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বৈধভাবে বিদেশে যায় ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি ৩ দশমিক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি হয় এক দশমিক ৩৫ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে যারা কাজ করতে আসেন তাদের ৫০ শতাংশই ভ্রমণ ভিসায় আসেন। এখানে কাজ জোগাড় করে আবার দেশে ফিরে যান। পরে আবার ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আসেন। বাংলাদেশ কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা বেশি। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছেন। এমনকি সরকারি প্রকল্পে যেসব বিদেশি কাজ করছেন তারাও ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসে কাজ করছেন।

গবেষণায় দেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগে অবৈধ অর্থের লেনদেনের বিষয়ও উঠে আসে। ভিসার সুপারিশপত্র, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভিসা সংগ্রহ, বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন, কাজের অনুমতি, এসবি ও এনএসআই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধিতে ২৩ থেকে ৩৪ হাজার টাকার নিয়মবহিভর্‚ত অর্থ লেনদেন হয়। এ ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশি এক্সপার্ট না খোঁজা, কর ফাঁকি, একই প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছরের বেশি কাজ করানো, ভিসা নীতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে আকসার। অবৈধ বিদেশি সনাক্ত করে সত্বর তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।