কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে চাই যুগোপযোগী পাঠক্রম

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে চাই যুগোপযোগী পাঠক্রম

সম্পাদকীয় ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

print
কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে চাই যুগোপযোগী পাঠক্রম

দেশে কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের।

বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পঠিত বিষয়সমূহ নিয়ে বহু দিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় বাংলাদেশের শিক্ষা আসলে ‘কর্মমুখী’ শিক্ষা নয়। কারিগরি শিক্ষার বিস্তারের কথাও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে কিন্তু এ ব্যাপারে কখনোই বাস্তবানুগ পরিকল্পনা করা হয়নি বা প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

কারিগরি শিক্ষার নামে দেশে যেসব বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় গড়ে উঠেছে সেগুলোর মান এবং পঠিত বিষয় নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। এসব প্রতিষ্ঠান এবং পঠিত বিষয়কে যুগোপযোগী করার তাগিদ অনেক আগে থেকেই দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ বিদেশ যাচ্ছেন কিন্তু বেশির ভাগই বিদেশ যান কোনো রকম কারিগরি জ্ঞান বা শিক্ষা ছাড়া। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত বা প্রশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে অনেকে বলে আসছেন।

আমরা মনে করি দেশে কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে সরকারের নেওয়া এ উদ্যোগ দেশে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি এবং বিদেশে প্রশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর একটি উদ্যোগ হবে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বিষয় পড়ানো হবে আর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সরকারকে চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা করে এগোতে হবে।

আগামী ১০/১৫ বছরে দেশের ও বিদেশের বাজারে কোন ধরনের কারিগরি বিষয়ের দখলে থাকবে তা নিয়ে সরকারকে আগেভাগে জানতে হবে। তারপর সে ধরনের পাঠক্রম তৈরি করতে হবে, সে ধরনের ‘শিক্ষিত’ বা ‘প্রশিক্ষিত’ জনশক্তি তৈরির মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর একজনকে কারিগরি ক্ষেত্রে নেওয়ার চিন্তাটিও প্রশংসনীয়।

আবার ষষ্ঠশ্রেণি থেকেই প্রতিটি শ্রেণিতে কারিগরি বিষয় যুক্ত করার বিষয়টিও খুবই যুগোপযোগী চিন্তা, কেননা এতে শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই কারিগরি শিক্ষার প্রাথমিক পাঠটা যেমন পাবে তেমনি তারা শিক্ষার পরবর্তী স্তরে নিজেদের পছন্দের বিষয়ও বেছে নিতে পারবে। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষিত ব্যক্তি দায় নয় সত্যিকার অর্থেই সম্পদে পরিণত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।