‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হালদা প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হালদা প্রশংসনীয় উদ্যোগ

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

print
‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হালদা প্রশংসনীয় উদ্যোগ

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নানাভাবে স্মরণ করা হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বস্তুত, বঙ্গবন্ধুকে সম্মানিত করার মাধ্যমে জাতিই সম্মানিত হচ্ছে, আলোকিত হচ্ছে ইতিহাসের অবিসংবাদিত এ নেতার আলোয়। এ আলোক যত বিচ্ছুরিত হবে, ততই এগোবে দেশ; মেধা-মননে উত্তরণ ঘটবে জাতির। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে হালদা নদী জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগত স্থান হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হবে। হালদায় মাছের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি প্রকৃতিতে আসবে নতুন প্রাণ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রের বরাত দিয়ে আজ খোলা কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামে হালদা নদী এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। এটির সুপেয় পানির বদৌলতে প্রতি বছর মা মাছ এখানে অবাধে রেণু (ডিম) ফোটাতে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়। ফলে মৎস্য ও হালদা নদীপ্রেমীরা ‘হালদা নদী রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে নদীটিকে অভয়াশ্রমসহ জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া থেকে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৯৮ কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাসহ নদীর সর্বত্র পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছিল।

প্রতিনিয়ত শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে হালদায় মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ফলে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে নদীটিকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এবং সর্বশেষ সরকার নদীর ঐতিহ্য রক্ষায় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এ হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার সিন্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অনুমোদন করার পর আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ঘোষণার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে জোরেসোরে কাজ শুরু করেছে প্রাণী ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা।

গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ড. মো. খলিলুর রহমান হালদার উৎপত্তিস্থলসহ এ নদীর উজান পরিদর্শন করেন। তিনি প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী ও উপ-নদীর শাখা-প্রশাখার স্থান ঘুরে দেখেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এর মাধ্যমে হালদা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেই প্রত্যাশা করি।