রোহিঙ্গা ইস্যুর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি কাম্য

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

রোহিঙ্গা ইস্যুর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি কাম্য

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

print
রোহিঙ্গা ইস্যুর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি কাম্য

বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আছে রোহিঙ্গা ইস্যু। দিনকে দিন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এটি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও সেটা এত প্রকট আকার ধারণ করবে ভাবতে পারেনি কেউই।

শেষপর্যন্ত ভরসার জায়গা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ানো। গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দেশটিকে কয়েকটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আদেশে আদালত মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীকে সব ধরনের গণহত্যার অপরাধ ও গণহত্যার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

গণহত্যা সনদের ধারা-এর আওতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা মিয়ানমারকে পূরণ করতে বলেছেন। রোহিঙ্গাদের হত্যা, নিপীড়ন বন্ধ ও বাস্তুচ্যুতির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে মিয়ানমারকে বিরত থাকতে বলেছেন।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের আদেশ ঘোষণা শুরু হয়। আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ আদেশ পড়ে শোনান। এ সময় অপর ১৪ জন স্থায়ী বিচারপতি ও দুজন অ্যাডহক বিচারপতি আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের চারটি আদেশ হলো- জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে হবে। গণহত্যার প্রমাণ ধ্বংস করা যাবে না। সশস্ত্র বাহিনী ফের কোনো গণহত্যা ঘটাতে পারবে না।

মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাম্বিয়া যেসব ব্যবস্থার আবেদন করেছে, সেগুলো হুবহু অনুসরণ না করে আদালত কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে আদালত বলেন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। গণহত্যা সনদের ধারা ৪১-এর আওতায় তিনটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশের শর্তগুলো বিরাজ করছে। গাম্বিয়া যেসব অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আদেশ চেয়েছে, সেগুলোর প্রথম তিনটির লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া। জাতিসংঘ তথ্যানুসন্ধান দলের উপসংহার, যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে, তাতে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় গণহত্যাই উদ্দেশ্য ছিল বলে যে উল্লেখ রয়েছে, তা আদালতের নজরে এসেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায় সময়োপযোগী। মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি জিইয়ে রেখেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোনো উসকানিতে পা না দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে সংকট মোকাবেলায়।