প্রাণ ফিরে পাক নদী

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

প্রাণ ফিরে পাক নদী

সম্পাদকীয় ৯:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

print
প্রাণ ফিরে পাক নদী

বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। এ অভিধা ধীরে ধীরে মুছে যেতে শুরু করেছে। নানা কারণেই হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীবন। আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও বন্ধ হয় নদীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন। অথচ নিজেদের স্বার্থেই নদীকে সচল ও বহমান রাখা উচিত। সেখানে সাময়িক লাভ-লোভে একশ্রেণির দুর্বৃত্ত নদীবিরোধী তথা সভ্যতাবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।

সুখের বিষয় হচ্ছে, দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকায় ৪৯ হাজার ১৬২ অবৈধ দখলদারদের বিবরণ উঠে এসেছে। তালিকা অনুসারে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশে নদ-নদীতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব তথ্য জানান। মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি আরও জানান, দেশে অবৈধ দখলদারদের প্রস্তুত করা তালিকা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে ও সংশ্লিষ্ট সব জেলা তথ্য বাতায়নে আপলোড করে সর্বসাধারণের পাঠ ও অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার কার্যক্রমটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর থেকে প্রণীত তালিকা অনুযায়ী বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এক হাজার ২৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় সর্বাধিক ৫ হাজার ৯০৬ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালী জেলায় চার হাজার ৪৯৯ জন, চট্টগ্রামে চার হাজার ৭০৪, কুষ্টিয়ায় তিন হাজার ১৩৪, বরিশাল জেলায় দুই হাজার ২৭২, ময়মনসিংহ জেলায় দুই হাজার ১৬০ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে। নদী দখলমুক্ত করার এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকার এ ক্ষেত্রে শেষপর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারলেই সম্ভব হবে নদীকে ফিরিয়ে আনা।