গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের উত্তরণ

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের উত্তরণ

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

print
গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের উত্তরণ

সারা বিশ্বেই গণতন্ত্র সর্বাধিক জনপ্রিয় শাসনপদ্ধতি। গণতন্ত্র থাকলে যে কোনো দেশ সহজেই এগিয়ে যায়। গণতন্ত্র সূচকে উত্তরণ ঘটেছে। এ উত্তরণ দেশের এগিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। বিশে^র ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ডের এই সূচকে গত বছর ৮৮তম অবস্থানে থাকলেও এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম। আট ধাপ অগ্রগতি সত্ত্বেও সূচকে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান গতবারের মতোই মিশ্র ক্যাটাগরিতে। মূল্যায়নের ১০ পয়েন্টের মধ্যে এবার বাংলাদেশের স্কোর ৫.৮৮। ২০১৯ সালে এ স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৫৭। তার আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৪৩।

গত বুধবার ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত গণতন্ত্র সূচকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর ইআইইউর এই গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম। অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে স্কোরের উন্নতি ঘটেছে। গত বছর ইআইইউর এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৭৭। এবার স্কোর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৮৮। গণতান্ত্রিক এই সূচকে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতি হলে প্রতিবেশী ভারতের অবনমন ঘটেছে ব্যাপক। গত বছর দেশটি ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় ৪১তম থাকলেও এবার ৫১তম অবস্থানে নেমে গেছে। এ বছর ভারতের স্কোর ৬.৯০।

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে গত বছর ৭১তম অবস্থানে থাকলেও এবার দেশটির দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। শ্রীলঙ্কা এ বছর ৬.২৭ স্কোর নিয়ে ৬৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। ৪ দশমিক ১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান গত বছর ১১২তম থাকলেও এবার ৪.২৫ স্কোর নিয়ে ১০৮তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি। ইআইইউর এই সূচকে এবারও ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে।

মিশ্র ক্যাটাগরিতে স্থান পায় সেই দেশগুলো, যেখানে নিয়মিত নির্বাচন হলেও তা অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় না, বিরোধী দল এবং বিরোধী প্রার্থীদের ওপর দমন পীড়ন, দুর্নীতি এবং দুর্বল আইনের শাসনের ভিত্তিতে শাসন পরিচালিত হয়। পাশাপাশি দুর্বল নাগরিক সমাজ, পক্ষপাতমূলক বিচার ব্যবস্থা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত থাকে। সুশাসন নিশ্চিতে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করি, সাধারণ মানুষকে আরও স্বস্তির জীবন উপহার দিতে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে উদ্যোগ নেবেন সংশ্লিষ্টরা।