বাড়ি যেন প্রকৃত দরিদ্ররাই পান

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

বাড়ি যেন প্রকৃত দরিদ্ররাই পান

সম্পাদকীয় ৯:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

print
বাড়ি যেন প্রকৃত দরিদ্ররাই পান

দেশের ৬৮ হাজার ৩৮টি গ্রামে একটি করে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার। প্রতিটি বাড়ি তৈরি করতে খরচ হবে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি ও আগামী অর্থবছর এসব বাড়ি নির্মাণ করা হবে। এ জন্য দুই বছরে বরাদ্দ প্রয়োজন ২ হাজার ৪০ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, উপকূলীয় অঞ্চল, নদী ভাঙনের শিকার, হতদরিদ্র, সহায় সম্বলহীন, ভূমিহীন ও প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এসব বাড়ি নির্মাণ করা হবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে। গত সপ্তাহে অর্থ বিভাগে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে কমে আসছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে প্রতি গ্রামে গৃহহীন একটি করে পরিবারকে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। এ উপলক্ষে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করে ৩০ হাজার বাড়ি নির্মাণ খাতে ৮৯৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা স্থানান্তরের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দেশের ৬৮ হাজার ৩৮টি গ্রামে একটি করে মোট ৬৮ হাজার ৩৮টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থ দিয়ে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাসকল্পে গৃহহীন পরিবারের মাঝে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সহজ হবে। দেশে অতি দরিদ্রতার হার যখন ক্রমশ নিম্নমুখী তখন ভিজিএফের সাহায্য ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করবে এবং আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। আধুনিক ও তৈরি করা বাড়ি পেলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে- এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বাড়ি নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার না হয় এবং নির্মিত বাড়ি প্রকৃত দরিদ্ররাই পান।