লালদীঘি ও পল্টন ময়দানে হত্যা মামলার রায়

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

লালদীঘি ও পল্টন ময়দানে হত্যা মামলার রায়

সম্পাদকীয়-১ ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

print
লালদীঘি ও পল্টন ময়দানে হত্যা মামলার রায়

চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে গুলি করে হতাহতের ঘটনায় করা মামলার রায় হয়েছে। এ রায় হয়েছে ঘটনার ৩২ বছর পর। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের একটি আদালত ঘোষিত রায়ে পাঁচ পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই দিন ঢাকার একটি আদালত রায় দেন সিপিবির জনসভায় বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার। এ রায় হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০ বছর পর। এই রায়ে ১০ জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে নিহত হন ২৪ জন, আহত হন অসংখ্য মানুষ। এই ঘটনায় ১৯৯২ সালে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি বিচারের পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, বিচার না করার প্রবণতাও ছিল প্রকট, অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হলো। রায়ে ওই ঘটনায় জড়িত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত পল্টনে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় করা মামলার রায় দিয়েছেন। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনায় করা মামলার রায় হলো ২০ বছর পর আর তা হলো বোমা হামলাটি যেদিন হয়েছিল ঠিক সে দিনই অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি। সিপিবির সমাবেশে হামলার এ মামলায় হরকাতুল জিহাদের ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।

এই দুটি মামলার বিচারের আইনি গুরুত্ব তো রয়েছেই, এ রায়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলো অন্তত আইনি প্রতিকার পেয়েছেন, অপরাধীরাও তাদের কৃতকর্মের সাজা পেয়েছেন। এসবের পাশাপাশি এ মামলা দুটির বিচার হওয়ার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে যথেষ্ট। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে হামলার ঘটনা আমাদের দেশে প্রায় মামুলি একটা বিষয়, আর এসব ঘটনার বিচার হওয়াটাও অনেকটা অবিশ্বাস্য বলেই মনে হতো কিন্তু দীর্ঘদিন পর হলেও লালদীঘি ময়দান ও পল্টন ময়দানের এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার আমাদের মধ্য থেকে এই ধারণা দূর করবে যে কোনো হত্যাকাণ্ডই বিচারহীনতার শিকার হবে না।

এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় হয়েছে, জেলহত্যা মামলার রায় হয়েছে সে সব মামলার রায় কার্যকরও হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারও হয়েছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা হামলার ঘটনা যেন কোনো অবস্থাতেই ‘রাজনৈতিক’ভাবে বিবেচনা করা না হয়, অপরাধী যেই হোক তাদের সাজা দেওয়া গেলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকেই শুধু সহায়তা করবে না, দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনকেও নিরাপদ করবে বলে মনে করি।