ইসিকে আরও যৌক্তিক হতে হবে

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

ইসিকে আরও যৌক্তিক হতে হবে

সম্পাদকীয়-১ ৯:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

print
ইসিকে আরও যৌক্তিক হতে হবে

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ নিয়ে একটা অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তারিখ ঘোষণার পর থেকে ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছিল দেশের হিন্দু সম্প্রদায়। সেদিন সরস্বতি পূজা হওয়ায় তারা ভোটের তারিখ বদলানোর দাবি জানান। এ নিয়ে তারা হাইকোর্টে এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যান।

দেশের রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজও এ দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা তো বটেই, নির্বাচনে দল দুটোর প্রার্থীরা পর্যন্ত নির্বাচনের তারিখ পেছানোর ব্যাপারে ইতিবাচক মত দেন।

প্রথমে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের ব্যাপারে ইসি অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ভোটগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দেয় কমিশন। ৩০ জানুয়ারির বদলে ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি।

ইসির এই সিদ্ধান্তে নির্বাচন নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটেছে বটে, তবে একই সঙ্গে এর ফলে পিছিয়ে দিতে হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা এবং অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ ফেব্রুয়ারি, এখন তা শুরু হচ্ছে ৩ ফেব্রুয়ারি। ঐতিহ্যগতভাবে বইমেলা শুরু হয় ১ ফেব্রুয়ারি, এখন বইমেলা শুরু হবে ২ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন কমিশন যদি ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকে ভাবত তাহলে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যক্রম দুটির তারিখ বদলানোর প্রয়োজনই পড়ত না। কমিশন বলতে পারে বা বলছে তারা সরকারি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেই এ তারিখ ঠিক করেছে; কিন্তু ক্যালেন্ডারে উল্লেখিত উৎসব বা পার্বনের দিন আর তারিখগুলো বেশিরভাগই শর্তসাপেক্ষ, চাঁদ দেখার ওপর বা তিথির ওপর নির্ভরশীল।

তাই যখনই ভোটগ্রহণের তারিখ বদলানোর দাবি উঠেছিল তখন শুধু ক্যালেন্ডারের দোহাই না দিয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করলে অনেক আগেই বিষয়টির সুরাহা হতে পারত। আমরা মনে করি, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এবার ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী থেকে ইসি শিক্ষা নেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দিন-তারিখ ঠিক করার ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে আরও যৌক্তিক আচরণ করবে।