ওষুধের বাজারে অনন্য অর্জন

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ওষুধের বাজারে অনন্য অর্জন

সম্পাদকীয় ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

print
ওষুধের বাজারে অনন্য অর্জন

বাংলাদেশের প্রাণ বাঁচাচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের। রোগীদের সুস্থ হতে রাখছে ধন্বন্তরী ভূমিকা- এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ কমই হয়! সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, দুই দশক আগেও দেশে শতকরা ৮০ শতাংশ ওষুধ আমদানি করা হতো। এখন ৯৮ ভাগ ওষুধ দেশেই তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে এখন বিপুল পরিমাণ ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

গত শনিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনধারণের জন্য প্রাকৃতিক পণ্য শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই মানুষ বিকল্প হিসেবে ট্রাডিশনাল মেডিসিনের দিকে ঝুঁকছে। এর প্রধান কারণ এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম।

সরকার ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে তা যেন মানসম্মত হয়, রোগীদের জন্য নিরাপদ হয় সে জন্য কোয়ালিটি কন্ট্রোল নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ করেছে। সরকার রোগ চিকিৎসায় ট্রাডিশনাল মেডিসিনকে অল্টারনেটিভ হিসেবে প্রমোট করতে সবিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এবং সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় একটি বড় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য ট্রাডিশনাল মেডিসিনকে জনপ্রিয় করা এবং এর উন্নয়নে ওষুধ শিল্প ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীদের সমাবেশ ও তাদের গবেষণালব্ধ আলোচনা, মতবিনিময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা-গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরছেন এ জন্য তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। ওষুধ রপ্তানির মাধ্যমে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের সুনাম। এ ধারা অব্যাহত থাকুক, সংশ্লিষ্টরা আরও এগিয়ে আসবেন বলেই আমাদের ধারণা।