আমন ধানে সুখবর অব্যাহত থাকুক

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬

আমন ধানে সুখবর অব্যাহত থাকুক

সম্পাদকীয় ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

print
আমন ধানে সুখবর অব্যাহত থাকুক

দেশে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে; দামও ভালো পাচ্ছে কৃষক। গতকাল খোলা কাগজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটা দারুণ সুখবর। একটা সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। কৃষিকাজ প্রধান পেশা আর কৃষিপণ্য বা ফসলই ছিল দেশের উৎপাদিত প্রধান পণ্য। সময়ের পরিক্রমায় কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশ, তারপরও খাদ্যশস্য উৎপাদনসহ নানা কারণে কৃষির গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এখনো কৃষিই প্রধান।

কৃষিকাজকে উৎসাহিত ও সহজ করতে বিভিন্ন সময় সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, প্রণোদনা দিয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় কিংবা সহযোগিতা ছাড়াই দেশের কৃষকরা তাদের কাজটা ঠিক ঠিক করে যাচ্ছেন। তবে সেই কৃষককে কখনো কখনো পড়তে হয় বিপাকে। আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে পারি এ বছরই বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পর তার উপযুক্ত দাম পাননি কৃষক। সে সময় সারা দেশে এ নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ পড়েছিল। বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা বিক্ষোভ করেছিলেন।

অভিযোগ ওঠে কৃষককে প্রতি মণ ধানে ন্যূনতম ২শ’ টাকা করে লোকসান দিতে হয়েছে, অনেক জায়গায় কৃষকরা শপথ করেছিলেন তারা আর ধান চাষ করবেন না। কিন্তু আরেকটা মৌসুম আসার পর কৃষক আর মাঠের ডাক উপেক্ষা করতে পারেননি। কৃষকদের পরিশ্রম আর ঐকান্তিক চেষ্টায় এবং সরকারের নানা পদক্ষেপে এবার আমনের ফলনও হয়েছে বেশ।

খোলা কাগজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমন ধান নিয়ে বিপাকে পড়েননি কৃষক। এবার কাঠা প্রতি এক হাজার টাকার বেশি লাভ হবে তাদের। এ খবরটি শুধু আনন্দদায়কই নয় স্বস্তিরও। কেননা ধানের উৎপাদনের ওপরই নির্ভর করে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি। দেশে চলতি বছর আউশ, আমন ও বোরো মিলে চাল উৎপাদনের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৩ কোটি ৬৪ লাখ টন। সবমিলিয়ে চালের উৎপাদন এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে বলে মনে করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষক ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে, তার লাভ হচ্ছে এটা আমাদের কৃষকদের মনে ধান চাষের ব্যাপারে যে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করেছিল তা কাটাতে সহায়তা করবে। আমাদের প্রত্যাশা আমন ধান নিয়ে এই যে সুখবর তা যেন শেষ পর্যন্ত সুখবরই থাকে, কৃষককে যেন ধান বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়তে না হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।