বিতর্কিত আইন : বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অটুট থাকুক

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

বিতর্কিত আইন : বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অটুট থাকুক

সম্পাদকীয়- ২ ৮:৩০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

print
বিতর্কিত আইন : বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অটুট থাকুক

ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধু হয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। বাংলাদেশ এ সহযোগিতা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে। তারপরও আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে প্রতিবেশী দুদেশের সম্পর্ক গভীর হয়েছে আরও। সম্প্রতি নাগরিকত্ব ইস্যুতে ভারতে যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, সেই আঁচ এসে লাগছে বাংলাদেশেও। দুদেশের মধ্যে নীরব টানাপড়েনের আশঙ্কার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে কিনা বিশ্লেষকরা সেদিকে নজর রাখছেন।

ভারতের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই গত শুক্রবার বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে (সিএবি) স্বাক্ষর করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি। এ আইনের বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের গুলিতে পাঁচ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিরোধী দলগুলো বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নাগরিকত্ব বিল ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) জের ধরে ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে টানাপড়েন সৃষ্টি হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত দিল্লি সফর হঠাৎ করেই স্থগিত হওয়ায় দুদেশের সম্পর্কের শীতলতা নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সফর বাতিলের সঙ্গে সিএবি বা এনআরসির কোনো সম্পর্ক নেই। ভারত হঠাৎ করেই সিলেট সীমান্তের তামাবিল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশিদের প্রবেশ স্থগিত করেছে। মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়েছেন সাত বাংলাদেশি।

এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা বাড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই দুদেশের বাসিন্দাদের আত্মীয়তা, আসা-যাওয়া, বসবাসের বিষয়টি জড়িত। অতীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া মুসলিমরা এ আইনের আওতায় বিতাড়িত হওয়ার শঙ্কায় থাকবেন। আবার বাংলাদেশ থেকে সে দেশে যাওয়া হিন্দুরা নাগরিকত্ব পাবেন।

হতাশা এবং ভয়ে থাকবেন বিপুলসংখ্যক মুসলিম। ফলে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের বহু মুসলিম বাসিন্দা বাংলাদেশে পাড়ি দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই জনবান্ধব হয়ে থাকে নিজেদের দেশের অনাকাক্সিক্ষত ‘সমস্যা’য় বাংলাদেশকে জড়াবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি। কোথাও কোনো ঘাপলা থাকলে শান্তিপূর্ণ পন্থাতেই সেগুলোর সমাধান সম্ভব।