শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মতাদর্শ হোক পাথেয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মতাদর্শ হোক পাথেয়

সম্পাদকীয়-১ ৯:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

print
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মতাদর্শ হোক পাথেয়

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আজ জাতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করবে হারিয়ে যাওয়া শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ মুহূর্তে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে পাকিস্তানিরা। তাদের সহায়তা করেছে এ দেশেরই স্বাধীনতাবিরোধী কতিপয় কুলাঙ্গার।

ষড়যন্ত্রকারীরা বুঝতে পেরেছিল, বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তাই ‘আন্দোলন-কৌশলের’ গতিপথ পরিবর্তন করে। দমনপীড়ন ও শক্তিপ্রয়োগে বাংলাদেশকে পরাস্ত করতে না পেরে কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। প্রণয়ন করে জাতিকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা।

বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞানী, সাংবাদিকসহ নানা ক্ষেত্রের প্রতিভাবান মানুষকে বিভিন্ন কৌশলে তুলে নিয়ে হত্যা করে ঘাতকরা। কাউকে কাউকে ভুল কথা বলে বাসাবাড়ি থেকে বের করা হয়েছে। তারা আর ফেরেননি, হারিয়ে গেছেন চিরতরে। বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে ঘাতক-হানাদাররা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে অনেক বছর। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের বিকল্প পায়নি বাংলাদেশ। সেটা সম্ভবও নয়। জীবিত থাকলে তাদের মেধার সুফল পেত দেশ। বুদ্ধিজীবীদের মেধা ব্যবহারে দেশ এগিয়ে যেত অনেক।

১৬ ডিসেম্বরে চূড়ান্তভাবে দেশ স্বাধীন হলে রাজধানীর মিরপুর, রায়েরবাজারে মিলতে থাকে বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত লাশ। জাতি একদিকে মুক্তির আনন্দে উদ্বেল হয়েছে, অন্যদিকে স্বজনসহ বুদ্ধিজীবীদের হারিয়ে ভেসেছে শোকাশ্রুতে। আনন্দ-বেদনার এমন মিশ্র অনুভূতি জাতীয় জীবনে আসেনি আর। আনন্দকে যেমন বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না, তেমনি ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির পর শেষ মরণকামড় হিসেবে বুদ্ধিজীবীদের প্রাণহানির দুঃসংবাদও পেতে হবে- এটাও ছিল অকল্পনীয়। বুদ্ধিজীবীরা নেই, রয়ে গেছে তাদের সৃজন-কর্ম। অমলিন আদর্শ, মতবাদ। সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিতে হবে দেশ গঠনের শপথ। তাদের শাণিত চিন্তা, ভিন্নমাত্রার কাজকে অধ্যয়ন-অনুশীলনের মাধ্যমে জাতি এগিয়ে যেতে পারে অনেক দূর।

সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের উচিত, নতুন প্রজন্ম থেকে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নে লালিত বাংলাদেশ গঠনে জোর দেওয়া। মায়ের ভাষার সম্মান, সীমাহীন লাঞ্ছনা-বঞ্চনার বিপরীতে সৃষ্টি হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিয়েছেন। মুক্তিপাগল বাঙালি পেয়েছিল দিশা। ধারাবাহিকতায় এগিয়ে আসতে থাকে কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা।

বিজয়ের মাসের মাসে মানুষের মনে নতুন করে দানা বাঁধবে দেশপ্রেম। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে সরকারে রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে, তাদের রেখে যাওয়া কীর্তি তুলে ধরতে আরও আন্তরিক হবে।