সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

সম্পাদকীয়-১ ৯:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

print
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তথা সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ পরিবহন কর্মীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে। ট্রাফিক শৃঙ্খলা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, যানবাহনে সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো, রাস্তা পারাপারে জনসাধারণকে পদচারী সেতু ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যেখানে সেখানে বাস থামালে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ট্রাফিক পুলিশের চেকপয়েন্ট বসিয়ে নানা রকমের নজরদারিমূলক কার্যক্রম চালানো।

সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলা কঠিন কিছু নয়। যানবাহন চালক, যাত্রী এবং পথচলা সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে নিয়ম মেনে চললে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এখানেই হচ্ছে সমস্যা। নিয়ম ভঙ্গ করাই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে বিশেষ করে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই- একথা জোর দিয়েই বলা যায়। বাসচালকরা বেপরোয়া। নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামে না। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানো হয়। রাজধানী ঢাকায় একসময় গণপরিবহনে টিকিট কেটে বাসে ওঠার নিয়ম চালু করা হয়েছিল।

নির্দিষ্টসংখ্যক সিটের বাইরে কোনো যাত্রী নেওয়া হতো না। বাস থামত নির্দিষ্ট স্টপেজে। কিন্তু বর্তমানে টিকিট কেটে বাসে ওঠার সেই নিয়ম বন্ধই হয়ে গেছে। এখন বিভিন্ন রুটের বাস নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর নিয়ম করা হলেও তা সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে না। দেখা গেছে, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরেও যাত্রী ওঠানো ও নামানো হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে বাস শ্রমিকরা হেনস্তা করেন। আর সিটিং বাসের নামে প্রতারণা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকায় আগে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির অনেক বাস চলাচল করত। ভাড়া ছিল সাধারণের আয়ত্তে। কিন্তু এখন স্বল্পসংখ্যক বিআরটিসির বাস চলাচল করে। আর এ সুযোগে বেসরকারি বাস কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছে অনেক। অদক্ষ চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে।

এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। এদিকে পথচারীদেরও শৃঙ্খলা মেনে চলতে দেখা যায় না। যত্রতত্র রাস্তা পার হতে দেখা যায়। অন্যদিকে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলছে দেদারছে। অবস্থা এমন যে, শৃঙ্খলা নামের কিছু কারও অভিধানে আছে বলে মনে হয় না। প্রকৃতপক্ষে ট্রাফিক শৃঙ্খলার বিষয়টি দুই সপ্তাহ বা এক মাস ধরে চালানোর বিষয় নয়, সব সময়ের অনুশীলনের বিষয়।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে আর আইন মেনে চলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। আইন অমান্য করলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য সারা দেশেই সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ সড়কের জন্য সারা দেশেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে ট্রাফিক আইন ভাঙার বিরুদ্ধে।