শিশুদের রক্ষায় পদক্ষেপ জরুরি

ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

শিশুদের রক্ষায় পদক্ষেপ জরুরি

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

print
শিশুদের রক্ষায় পদক্ষেপ জরুরি

সম্প্রতি শিশু হত্যা, শিশু অপহরণ ও নির্যাতন, মুক্তিপণ দাবির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে- এমনটাই দেখছে দেশবাসী। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের এক পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২৯টি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে কেরানীগঞ্জে আবদুল্লাহ নামের এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়। পাবনার ঈশ্বরদীতে দুই শিশুকে বিষ খাওয়ানো হয়।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাদীঘি গ্রামের চার শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা হৃদয়বিদারক। কী অপরাধ করেছিল এই শিশুরা, তাদের এভাবে চিরবিদায় নিতে হলো পৃথিবী থেকে। তাদের হত্যা করে নদীর চরে বালু চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

এর আগে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার আউটপাড়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। কিন্তু কেন এ ধরনের অপতৎপরতা একশ্রেণির মানুষের মাঝে? বাহুবল উপজেলায় চার শিশু হত্যাকাণ্ডের পেছনে এলাকায় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধই কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের বিরোধের জের ধরে অবুঝ শিশুকে মেরে ফেলা হবে- এটা কেমন কথা!

আর গাজীপুরে চান্দনা চৌরাস্তার আউটপাড়ায় যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে তার পেছনে কারণ হলো শিশুটির বাবা নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশেই এক সেলুন ব্যবসায়ীর ঋণের জামিনদার হতে চাননি। এ কারণে সেলুন ব্যবসায়ী শিশুটিকে অপহরণ করে। এরপর তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। বাবা ঋণের জামিনদার হতে চাননি বলেই কি তার অবুঝ শিশু ক্ষোভের বলি হবে? কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শিশুহত্যার অভিযোগে এক মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শিশুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার কারণে আজকাল মা-বাবারা বড় উদ্বেগের মধ্যে কাটান। শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, বড়দেরও রেষারেষির জের ধরে প্রতিশোধের খোরাক হচ্ছে, মুক্তিপণের পণ্য হচ্ছে- এটা অবশ্যই উদ্বেগের। বলা যায় যে, সামাজিক অবক্ষয় আর মূল্যবোধের ঘাটতি এর অন্যতম কারণ। অপরাধী যখন অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তখন অন্য অপরাধীরা অপরাধ করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে। বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, বিচার না হওয়া অথবা শাস্তি কম হওয়া ইত্যাদির কারণে শিশু নির্যাতনের আধিক্য অপরাধীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা বলা যায় নিঃসন্দেহে।

বলা হয়, শিশুরা ফুলের মতো পবিত্র ও নিষ্পাপ। তাদের সঙ্গে কারও বিরোধ, সংঘাত বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার প্রশ্নই থাকতে পারে না। অথচ আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে শিশুরাই আজ চরম বর্বরতার শিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার। পারিবারিক কলহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ব্যক্তিগত লোভ অথবা স্বার্থ আদায়ের অস্ত্র হিসেবেই নির্ঘাৎ শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব খুবই দুঃখজনক।

এগুলো মূলত শিশুদের অসহায় অবস্থার চিত্রই তুলে ধরছে। শিশুহত্যা ও নির্যাতন রোধ করতে হবে কোনো কালক্ষেপণ না করে। তা না হলে সমাজ থেকে কলুষতা দূর হবে না। শিশুরা হয়ে পড়বে আরও অরক্ষিত। শিশুদের রক্ষায় সমাজ এবং সরকারের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।