বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুবাতাস

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুবাতাস

সব মহলের দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য

সম্পাদকীয়-১ ১০:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

print
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুবাতাস

শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। অংশ নেবেন ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে। দারুণ স্বস্তির একটি খবর এটি। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আরও একটি সুখবর এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহ থেকে।

গত ৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের এক ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বুয়েট। শিক্ষার্থীরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সোচ্চার হন। প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছুটা নির্লিপ্ত আচরণ করলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আবেগ আর অনুভূতির সঙ্গে তারা একাত্ম হয়। আবরার হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে তারা বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল বুয়েটের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে, শিক্ষা কার্যক্রমে ফের মুখর হয়ে উঠবে ক্যাম্পাস। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কিছু কিছু দাবি নিয়ে ক্লাসসহ একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানাভাবে ও কৌশলে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সচল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। অবশেষে বুধবার বুয়েটের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার কথা জানিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীরা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুয়েট প্রশাসনকে এখন শিক্ষার্থীদের এই ফিরে আসাকে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

অপরদিকে দীর্ঘ অচলাবস্থা থেকে মুক্ত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও। শীতের পাখিরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছে, পাখিদের কলরবে যখন মুখর হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তখন সেখানে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ক্যাম্পাসের আসল সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছিল। আরও অতিথি পাখি আসুক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, ফিরে আসুক ক্যাম্পাসের প্রাণ-শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ, শিক্ষার্থীসহ নানা দাবি নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাদের কথা শুনে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সমস্যা আছে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় যেসব সমস্যায় আটকে আছে তা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসার সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে-এটাও আমাদের প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো কারণে অস্থিতিশীলতা বা অচলাবস্থা দেখা দিলে তার নানামুখী প্রভাব পড়ে, তাই যাতে এ ধরনের অবস্থা তৈরি না হয় সেদিকে সতর্ক খেয়াল রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকেও এ ক্ষেত্রে পালন করতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। কারও কোনো ধরনের কথা বা আচরণে যাতে পরিস্থিতি নাজুক না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো মেতে উঠুক প্রাণের উচ্ছ্বাসে, বন্ধ দুয়ারগুলো খুলে যাক, অবারিত হোক শিক্ষার শীর্ষ পাদপীঠগুলো।