শব্দদূষণে স্বাস্থ্য অবনতির আশঙ্কা

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

শব্দদূষণে স্বাস্থ্য অবনতির আশঙ্কা

‘শব্দহীন’ এলাকা বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রশংসনীয়

সম্পাদকীয় ১০:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

print
শব্দদূষণে স্বাস্থ্য অবনতির আশঙ্কা

আপ্তবাক্যে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল বলা হলেও বর্তমান সত্য হচ্ছে, কোনো মানুষের স্বাস্থ্য-সুরক্ষার বিষয় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। সচেতন থেকে কেউ যে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে তার সুযোগও তেমন নেই। বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতির ক্রীড়নক হয়ে যাচ্ছে মানুষ; নিজেদের অজান্তেই। চাইলেও এ চক্র ভেদ করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও অনেকটাই অসহায়। পরিবেশদূষণ, বায়ুদূষণ থেকে শুরু করে চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে অসংখ্য দূষণ। রাজধানী ঢাকায় যে হারে শব্দদূষণ বাড়ছে তাতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এটা চলমান থাকলে শারীরিক-মানসিক নানা সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। ৪ ডিসেম্বর খোলা কাগজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যঝুঁকির এসব দিক তুলে ধরা হয়েছে।

ক্রমাগত শব্দদূষণ চলতে থাকলে মানুষ এক সময় বধির হয়ে যেতে পারে। এটা প্রায় দুরারোগ্য ব্যাধি। বধির মানুষ মূলত একা মানুষ। পরিবারের সঙ্গে এবং অফিস-আদালতে সুচারুভাবে প্রয়োজনীয় কাজ সারা একজন বধির মানুষের পক্ষে অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৮৫ ভাগ দূষণ হচ্ছে পরিবহন থেকে। ঢাকা শহরে গণপরিবহন সমস্যা দীর্ঘদিনের। কারণে-অকারণে যত্রতত্র হর্ন বাজানোর প্রবণতা চালকদের মধ্যে বেশি। হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো বন্ধে আইন করা হলেও, এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলা কিংবা বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার স্বপ্ন দেখানো হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতি কোনোটাই অনুকূলে নেই। ঘরে-বাইরে নানামুখী দূষণের শিকার আজকের শিশুরা। তাদের নেই পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ, নেই খেলার মাঠ, অনেকের পরিবারেও নেই স্থিতিশীল পরিবেশ। বাবা-মায়ের দাম্পত্যকলহ শিশুর মনোজগতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। নানামুখী সমস্যার কোনো কোনোটি সমাধানযোগ্য হলেও শব্দদূষণে নিয়ন্ত্রণ নেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

বলা হচ্ছে, ক্রমাগত শব্দদূষণ চলতে থাকলে আগামীতে জাতিকে দিতে হবে চড়া মাশুল। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সত্বর কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তা দেখা দেবে মহামারী আকারে। বর্তমান শব্দমান মানুষের স্বাভাবিক শব্দ গ্রহণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। বিপরীতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে নেই বড় কোনো উদ্যোগ। বাংলাদেশে ৯ দশমিক ৬ ভাগ বা দেড় কোটি মানুষ বধিরতায় ভুগছেন।

আশার কথা হচ্ছে, শব্দদূষণ রোধে সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রাজধানীর সচিবালয়ের চারপাশকে নীরব জোন হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সরকারের এমন উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এখন থেকেই শক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে আগামীতে মিলবে সুফল। জাতি রক্ষা পাবে বড় দুর্যোগ থেকে।