জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা জরুরি

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

print
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবে এরই মধ্যে মাশুল গুনছে দরিদ্র দেশগুলোর লাখ লাখ মানুষ। গত এক দশকে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া ও ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ দাবানলের কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে দুই কোটি মানুষ। দারিদ্র্য বিরোধী দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এক গবেষণায় সোমবার এ কথা বলেছে।

রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অক্সফাম আরও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব হুমকি সামনে এগিয়ে আসছে তাতে যদি নেতারা দ্রুত ব্যবস্থা না নেন তাহলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ‘অ্যাকশন ফর সারভাইভাল : ভালনারেবল নেশন্স কপ-২৫ লিডার্স’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি মুহূর্তের নিষ্ক্রিয়তা মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে নতুন প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

পত্রিকায় প্রকাশ, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে আমাদের শিশুরা ক্ষমা করবে না, কাজ করার এখনই সময়। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য এক নির্মম বাস্তবতা। এটি এখন মানবজীবন ও পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আছি আমরা, সম্ভবত আমাদের সময়টা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ সময়। তিনি বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন প্রতিটি দেশের অস্তিত্বের ওপর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব আক্রান্ত দেশগুলো।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভিবাসী সংকট মোকাবেলায় একটি যথাযথ কাঠামো তৈরি করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কার্যকর অভিযোজন কৌশল অনুযায়ী অভিবাসীদের মাইগ্রেশন হলে আমরা অবশ্যই এর প্রশংসা করব। আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্থানান্তর ও সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ দেওয়া দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজনে আমাদের একটি উপযুক্ত কাঠামো তৈরি নিয়ে আলোচনা করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর প্রভাব মানব অভিবাসনের ওপর পড়ছে। সহিংস সংঘাতের চেয়েও চরম আবহাওয়ার বেশি মানুষকে স্থানচ্যুত করছে। ধীরে ধীরে সমুদ্র-স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি ও মরুকরণের মতো ঘটনার দিকে বিশ্বের মনোযোগ কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভারসাম্যহীনতা সংশোধনে আমাদের অবশ্যই একত্রে কাজ করতে হবে।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত, আশা করব বিশ্ব নেতারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে বিবেচিত করবে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা করে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।