মিম-রাজীবের মৃত্যুর রায়

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

মিম-রাজীবের মৃত্যুর রায়

সড়কে শৃঙ্খলা আসুক

সম্পাদকীয়-১ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

print
মিম-রাজীবের মৃত্যুর রায়

সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটলেও গত বছর দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর কিশোরদের অভূতপূর্ব আন্দোলনে অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়ে। এরপর থেকে মাঝেমধ্যেই ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ বা সপ্তাহ পালন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেই সঙ্গে পুরনো আইন সংশোধন করে নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উত্থাপন করা হয়; অন্যদিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার কাজ চলতে থাকে। অবশেষে বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেওয়া সেই দুর্ঘটনার দেড় বছরের মাথায় রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মামলার এ রায় ঘোষণা করেন।

পত্রিকায় প্রকাশ, সড়কে বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালক এবং এক সহকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত, খালাস পেয়েছেন এক বাসের মালিকসহ দুজন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, দেশের পরিবহন সেক্টরে ড্রাইভার হেলপারদের খামখেয়ালিপনার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ হত্যার শিকারে পরিণত হচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া আবশ্যক।

দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধজনক নরহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বাস চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং হেলপার কাজী আসাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ধারায় এটাই সর্বোচ্চ সাজা।

দণ্ডিত তিন আসামির মধ্যে পলাতক কাজী আসাদ বাদে বাকি দুজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জাবালে নূরের একটি বাসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও হেলপার এনায়েত হোসেনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে রায়ে। ওই পরিবহন কোম্পানির আরেক বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালক মাসুম বিল্লাহর বাসটি গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের উপরে উঠে গেলে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির আবদুল করিম রাজীব নিহত হয়; আহত হয় আরও কয়েকজন।

দিয়া ও রাজীবের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে এক সপ্তাহ অচল থাকে ঢাকার সড়ক, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়। শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয় সরকারকে। শিক্ষার্থীদের দাবিতেই সংসদে পাস হয় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন, যা গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে। তবে পরিপূর্ণভাবে এ আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতার পরও নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হোক এবং পথচারীসহ সড়ক সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।