সিঁড়িতে ঢাবি শিক্ষকের ক্লাস

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

সিঁড়িতে ঢাবি শিক্ষকের ক্লাস

সমস্যার সমাধান কাম্য

সম্পাদকীয় ৮:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

print
সিঁড়িতে ঢাবি শিক্ষকের ক্লাস

একজন শিক্ষকের জন্য ক্লাসরুমই কাজের প্রধান জায়গা, সে ক্ষেত্রে ক্লাস না নিতে পারলে যে যন্ত্রণা একজন শিক্ষককে ভোগ করতে হয় তা কোনো কিছুর বিনিময়েই পূরণ করা সম্ভব না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ক্লাস নেওয়া থেকে শিক্ষকদের বিরত রাখার অনাকাক্সিক্ষত চিত্র আমাদের দেখতে হয়, এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আদালতের রায়ের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে ক্লাসে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ক্লাস নেওয়ার অনুমতি না পেয়ে অবশেষে সিঁড়িতেই ক্লাস নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ভবনের সিঁড়িতে ক্লাস নেন তিনি। একটি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্লাসে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে ক্লাসে ফিরতে চেয়ে গত বুধবার ও এর আগের দিন মঙ্গলবার বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমের সামনে অবস্থান নেন তিনি। এ সময় তিনি ‘আমি শিক্ষক আমাকে ক্লাসে ফিরে যেতে দিন’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক রুশাদ ফরিদীর বিরুদ্ধে শিক্ষকসুলভ আচরণ না করার অভিযোগ আনেন। তবে রুশাদ ফরিদীর অভিযোগ, তাকে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেন বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলকভাবে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। এসব অনিয়ম নিয়ে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে ৭টি চিঠিও পাঠিয়েছিলেন বলে জানান।

২০১৭ সালের ১২ জুলাই তাকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানোর চিঠি দেয় সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর তা পুনর্বিবেচনার দাবিতে ভিসি, প্রো-ভিসি (শিক্ষা), প্রো-ভিসি (প্রশাসন), রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর উকিল নোটিস পাঠান রুশাদ ফরিদী। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাড়া না দিলে একই বছরের ১৩ জুলাই তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন।

২৪ জুলাই সিদ্ধান্তটি কেন অবৈধ নয় সেটি জানাতে উচ্চ আদালত রুল জারি করে। দীর্ঘ শুনানির পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ড. রুশাদ ফরিদীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের দেওয়া আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে একই সঙ্গে তাকে কাজে যোগদান করারও নির্দেশ দেয়। আমরা আশা করব যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক শিগগিরই ক্লাসে যোগদান করতে সক্ষম হবেন।