টাকা বানানোর রোগ

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

টাকা বানানোর রোগ

সুনীতির চর্চা জরুরি

সম্পাদকীয়-১
🕐 ৯:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

টাকা বানানোর রোগ

ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকার পাহাড় জমানোর যে ঘৃণ্য সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে কাজ করে, তা মনুষ্যত্বকে একেবারে ভূলুণ্ঠিত করে ফেলে। বিশেষ করে টাকার নেশা একবার পেয়ে বসলে তখন আর সৎপথ বা অসৎপথের চিন্তাটা দুর্নীতিবাজ মানুষের মধ্যে থাকে না। টাকা উপার্জন করার ক্ষেত্রে যে কোনো মাধ্যম হলেই সেটিকে কাজে লাগিয়ে ক্রমান্বয়ে অর্থ সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণের জন্য নীতি বিবর্জিত মানুষ মরিয়া হয়ে ওঠে।

পত্রিকায় প্রকাশ, টাকা বানানোকে রোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আসলে টাকা বানানো একটা রোগ, এটাও একটা ব্যাধি, অসুস্থতা। একবার যে টাকা বানাতে থাকে তার শুধু টাকা বানাতেই ইচ্ছে করে। কিন্তু ওই টাকার ফলে ছেলেমেয়ে বিপথে যাবে, মাদকাসক্ত হবে, সেটা দেখারও সময় নেই- টাকার পিছনে ছুটছে তো ছুটছেই। আর নিজের পরিবার ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। কাজেই এ ধরনের একটা সামাজিক অবস্থা আমরা চাই না।

আমরা চাই সৎপথে কামাই করে যে চলবে সে সম্মানের সঙ্গে চলবে, সৎপথে কামাই করে যে থাকবে, সে সমাজে সম্মান পাবে।’ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ কারও ভোগ-বিলাসে ব্যয় হবে না। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি, এটা অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজদের মানুষ গালি দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চোরা টাকা, দুর্নীতির টাকা, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে যতই বিলাসিতা করুক, মানুষ মুখে হয়তো খুব বাহবা দিবে, পিছনে একটা গালি দিবে এই কথাটা মনে রাখতে হবে। নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যে ত্যাগের মহিমা জাতির পিতা দেখিয়ে গেছেন সেই পথ ধরে চলতে হবে।

দুর্নীতিতে বিশ্বে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে রেকর্ড বাংলাদেশের রয়েছে, সেটি বিবেচনা করে জাতিগতভাবে সুনীতির চর্চা আমাদের জন্য খুব জরুরি। এক্ষেত্রে মূল্যবোধ বিনির্মাণসহ পারস্পরিক সহমর্মিতার বাস্তবতাটি অনুধাবন করা দরকার। কেননা দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে যে টাকা উপার্জন করা হয় তা মোটেও বৈধ টাকা নয়, নিজের ক্ষমতাকে পুঁজি করে মানুষের অসহায়ত্বকে টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করলে এক সময় সেটির প্রভাব দুর্নীতিবাজদের ওপর পড়ে।

দুর্নীতি দমন কমিশন যখন অভিযান পরিচালনা করে, সে সময় ঠিকই দুর্নীতিবাজদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়ে যায়। তাই টাকা বানানোর রোগে আক্রান্ত না হয়ে বৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে জীবন পরিচালনা করাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য সম্মানের।

 
Electronic Paper


SA Engineering