মশা সন্ত্রাসে বিশ্বের কাঁপুনি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মশা সন্ত্রাসে বিশ্বের কাঁপুনি

প্রতিরোধে তৎপর হতে হবে

সম্পাদকীয়-১ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

print
মশা সন্ত্রাসে বিশ্বের কাঁপুনি

এই মুহূর্তে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা বিশ্বের সরকারগুলোর মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ। প্রায় প্রতিদিনই উগ্রবাদী বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের হামলায় বিশ্ব রক্তাক্ত হচ্ছে। উগ্র মতাদর্শিক এই সন্ত্রাসের ডামাডোলের ভেতরেই সারা বিশ্বকে কাঁপাচ্ছে ক্ষুদে সন্ত্রাসী মশা। বছরে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটাচ্ছে এ ক্ষুদে সন্ত্রাসী। বাংলাদেশে চলতি বছর বর্ষাকালে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হয়। এ বছর মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯,২৬৩ জন, চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৮,৪৩৪ জন।

খোলা কাগজে প্রকাশ, বিশ্বে স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সারা দুনিয়ায় রাজত্ব করছে ৩৫০০ প্রজাতির মশা। ছোট্ট এই পতঙ্গ নানা ধরনের অসুখ-বিসুখের বাহক। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, ফাইলেরিয়া, ইয়েলো ফিভার, জাপানি ইনকেফালাইটিসসহ শতাধিক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী এ মশা। বছরে বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মশাবাহিত অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। মারা যাচ্ছেন ১০ লাখের বেশি

এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে দাবি করেন অনেক গবেষক। কারও কারও দাবি, বছরে ৩০-৫০ কোটি মানুষ মশাবাহিত অসুখে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে মশার কামড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা এক কোটি!

মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সন্ত্রাসী হামলা, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা ক্যান্সারের চেয়ে অনেক বেশি। এক সময় বৃষ্টিপ্রবণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল মশার উপদ্রব। ইউরোপীয়রা ভারতবর্ষে উপনিবেশ স্থাপন করতে এলে নাজেহাল হতে হয়েছে মশার আক্রমণে। ব্রিটিশ ভারতের এক সময়কার রাজধানী কলকাতায় মশা কোনো কোনো সময় এত বেড়ে যেত যে ক্ষুদ্র এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে রীতিমতো কামান দাগা হতো। সেটা উনবিংশ শতকের ঘটনা।

দুই শতাব্দী পরে একুশ শতকে এসে হাতেগোনা কয়েকটি অতি ঠাণ্ডার দেশ ছাড়া মশা সারা বিশ্বের জন্য রীতিমতো এক বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আর শুধু বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, লাইবেরিয়া নয়; যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জার্মানি সবাইকে ভাবাচ্ছে ক্ষুদ্র এই পতঙ্গ। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত ও উপচেপড়া জনসংখ্যার নগরায়ণ কিংবা কীটনাশকপ্রতিরোধী হয়ে ওঠার কারণে মশার বংশ যেমন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে তেমনি ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন জায়গায়। ফলে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে মশাবাহিত রোগবালাই।

গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভীষিকার নাম মশাবাহিত ডেঙ্গু। বাংলাদেশে এ বছর ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এডিস মশার নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু মোকাবেলার জন্য সরকারকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।

সামনের মৌসুমে ডেঙ্গু যাতে বিস্তার লাভ না করতে পারে সে জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে। সারা বছর ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি এখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে সামনের বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।