দখলে অধিকাংশ নদী

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দখলে অধিকাংশ নদী

উদ্ধারে ছাড় নয়

সম্পাদকীয় ৯:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৯

print
দখলে অধিকাংশ নদী

নদীমাতৃক আমাদের দেশজুড়ে মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে ছোট-বড় অসংখ্য নদী। এখনো ঘর থেকে একটু দূরে গেলেই নদীর দেখা মেলে। এই নদী ঘিরে কোটি কোটি প্রাণের জীবনসঞ্চার। নদীকে জীবন্তসত্তা হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অথচ যুগে যুগে দূষণ-দখলে জর্জরিত হয়েছে নদী, যা এখনো চলমান। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার নদী বেদখল হয়ে গেছে। জলদস্যু-ভূমিদস্যু, শিল্প-কারখানা, আবাদি জমি, বসতি-ইত্যাদি কারণে হারিয়েছে অনেক নদীর প্রাণ। দখলবাজির পাশাপাশি দূষণের কারণেও অনেক নদী ধুঁকছে।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৪৯ হাজার ১৬২টি নদ-নদী দখলের তথ্য প্রকাশ করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটিকে কমিশন জানিয়েছে তারা নদীগুলো দখলমুক্ত করতে কাজ করছে। রাজধানীর পাশর্^বর্তী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু; চট্টগ্রামের কর্ণফুলীসহ অনেক নদীর দূষণ-দখল ঠেকাতে কাজ করছে সরকার। এ সংক্রান্ত অভিযানও চলছে নিয়মিত। অনেক জায়গা দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধারও হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সে জায়গা দখল হওয়ায় কর্তৃপক্ষকেও পুনরায় তা উদ্ধারে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পর্যায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

এদিকে দখল হওয়া নদীগুলো দখলমুক্ত করতে স্থানীয়দের বাধা এমনকি মামলারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির বৈঠক থেকে জানা গেল, সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবীও রয়েছে। এখন মামলা-হামলা কিংবা পুনরায় দখলবাজির কবলে যদি এই নদীগুলোই আবার দূষণ-দখলের শিকার হয় তাহলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। মনে রাখতে হবে, নগরায়ণ-শহরায়ণের ছোঁয়া লাগলেও নদীর প্রয়োজনীয়তা কমবে না। আর জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে নদী রক্ষার বিকল্প নেই।

আমরা বলতে চাই, নদী উদ্ধারের কাজে যারা বাধা দেবে এবং দূষণ-দখলের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীর যেমন জীবন আছে, তেমন প্রাণিকুল রক্ষা করতে তার অবদান অসামান্য। তাই সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং নদীরক্ষা কমিশনকে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। এখনো নদীর অনেক খাস জায়গা ভরাট করে ভোগ করছে অসাধু শ্রেণি। এর আগে তাদের তালিকাও প্রকাশ পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে জরুরিভিত্তিতে। মনে রাখতে হবে, নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং এতে সবার অধিকার রয়েছে। তাই সবার অধিকার রক্ষার্থেই নদী উদ্ধারে কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।