গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানি

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানি

আর যেন না হয়

সম্পাদকীয়-১ ৯:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

print
গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানি

গ্যাস আমাদের নিত্যদিনের জীবনে অপরিহার্য এক অনুষঙ্গ। এক্ষেত্রে পাইপলাইনসহ সিলিন্ডারের মাধ্যমে আমরা গ্যাস ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ ও সংরক্ষণের ধারাবাহিকতায় এ দুটো মাধ্যমই যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে গ্যাসলাইনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হলে নজরদারি করা হয় না, আর এ গুরুত্বহীনতার ফলেই গ্যাস হঠাৎ করে ব্যস্ত জনজীবনে জীবনহানির কারণ হয়ে ওঠে।

পত্রিকায় প্রকাশ, চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটায় রাস্তার পাশে গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু, দুই নারী এবং চার পুরুষ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত রোববার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা এলাকার ব্রিকফিল্ড রোডে বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আটজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সকাল ৯টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ১৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সাতজনের মৃত্যু হয়। হতাহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বিস্ফোরণ কীভাবে হয়েছে তাও জানা যায়নি। তবে বিস্ফোরণে বাড়ির পাশের দুটি দেয়াল ধসে পড়ে। এতে পথচারীরা হতাহতের শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ এই বিস্ফোরণে দুটি দেয়াল স্প্লিন্টারের মতো উড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আতঙ্কে চারদিকে মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির একজন পরিদর্শক জানান, গুরুতর আহত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান তিনি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তারা উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। রাস্তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে তারা।

এদিকে পাথরঘাটায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র। শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা এবং লাশ পরিবহনের ব্যয় নির্বাহের আশ্বাস দেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। গত রোববার বেলা ১১টার দিকে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সার্বিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, শুধু পাইপলাইন নয় কিছুদিন আগে রাজধানীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। এ কারণে গ্যাস সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত পাইপলাইন ও সিলিন্ডার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের সতর্ক হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি। এমন দুর্ঘটনা যেন আর কারও জীবনহানির কারণ হতে না পারে।