জনপ্রতি তিন টাকা ক্ষতিপূরণ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জনপ্রতি তিন টাকা ক্ষতিপূরণ

মানবিক সিদ্ধান্ত জরুরি

সম্পাদকীয় ৯:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

print
জনপ্রতি তিন টাকা ক্ষতিপূরণ

সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ব্যাপক আকারের ক্ষয়ক্ষতির কবল থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পেলেও এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে দুই লাখ ৯৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন হয়েছে ৪৮ হাজার পরিবার। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে খুলনা জেলা প্রশাসন বরাদ্দ দিয়েছে আট লাখ টাকা, যা মাথাপিছু তিন টাকারও কম। এ ছাড়া চাল বরাদ্দ দিলেও এখন পর্যন্ত তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছেনি।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বুলবুলের তা-বে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও রূপসা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ৩৭ হাজার ৮২০টি ঘরবাড়ি আংশিক ও ৯ হাজার ৪৫৫টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে, ২৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল পানির নিচে ছিল। এতে ৮৫০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় আড়াই লাখ টাকা করে, পাইকগাছা উপজেলায় দেড় লাখ টাকা, বটিয়াঘাটা উপজেলায় এক লাখ টাকা এবং রূপসা উপজেলায় ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রূপসা ও দাকোপ উপজেলায় ৫০ টন করে চাল, ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, পাইকগাছা উপজেলায় ২৫ মেট্রিক টন চাল, ২০০ প্যাকেট খাবার, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন চাল, ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, রূপসা উপজেলায় ১৫ মেট্রিক টন চাল ও ১০০ প্যাকেট খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ইউনিয়নের জন্য আট মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তবে তা এখনো বিতরণ করা হয়নি। ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ১০ হাজার কাঁচা ঘর আংশিক ও ২০ হাজার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চিংড়ি চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, জিআর-এর আট হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা উপজেলা প্রশাসনে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এত স্বল্প পরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব নয় বলেও এই ইউপি চেয়ারম্যান জানান।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, জিআরের টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। এক্ষেত্রে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।