নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার

আশু সমাধান জরুরি

সম্পাদকীয়-১ ৯:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

print
নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার

আমাদের জীবনধারণের জন্য পেঁয়াজ নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি খাদ্যদ্রব্য। এ পেঁয়াজ উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে পেঁয়াজের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পাগলা ঘোড়ার মতোই ছুটে চলেছে পেঁয়াজের দাম।

পত্রিকায় প্রকাশ, গতকাল শুক্রবার পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের এমন ঝাঁজে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ প্রায় সবার চোখের পানি বেরুনো উপক্রম। পেঁয়াজ নিয়ে এমন অলুক্ষুণে কা- কেউই কখনো দেখেনি। বর্তমানে পেঁয়াজ ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এখনো নটআউট। ক্ষেত থেকে নতুন পেঁয়াজ ওঠার আগ পর্যন্ত এটা কোন দিকে মোড় নেবে ধারণা করা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিকারকরা আমদানি অব্যাহত রেখেছেন, পাইকারি ও খুচরা বাজার কোথাও ঘাটতি নেই; চাহিদামতো পেঁয়াজ পাওয়া যাওয়ার পরও কেন দাম বেড়েই চলেছে! নেপথ্যে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রয়েছে কিনা, কারা কোত্থেকে কলকাঠি নাড়ছেন তা খুঁজে বের করা উচিত।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারে নেই সরকারি তত্ত্বাবধান। যে কারণে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীসহ সিন্ডিকেট-চক্র অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রেখেছে। তাদের মাত্রাতিরিক্ত লাভ-লোভের মাশুল দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। বর্তমানে জাতীয় সংসদেও ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এই সংসদ সদস্যরা সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন নাকি নিজেদের ব্যবসার পথ নিষ্কণ্টক করতে এমপি পদকে অলঙ্কৃত করছেন তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন ও কৌতূহল।

অন্যদিকে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শৈথিল্য এবং নিষ্পৃহতাও জন্ম দিয়েছে ক্ষোভ ও উষ্মার। সংশ্লিষ্টদের সময়োপযোগী ভূমিকার বদলে বেফাঁস মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালছে আরও। ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে দৃশ্যত সঠিক মনিটরিংয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। হঠাৎ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও দূরদৃষ্টির পরিচয় দিতে পারেনি। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর কোনো কৌশলই নিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে মন্ত্রীদের সবকিছু সহজে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক দেখানোর প্রচেষ্টাও ব্যবসায়ীদের করেছে আরও দুর্বিনীত।

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে দায়ী করা হলেও সেই অর্থে পেঁয়াজ আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দেশের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে সারা দেশে প্রভাব ফেলে এমন প্রশ্নও রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় ব্যবসায়ীরা ধারণা পোষণ করেছিলেন, পেঁয়াজের আবাদ বিনষ্ট হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু না হলেও সুযোগসন্ধানীরা তৎপর রয়েছে।

বর্তমানে পেঁয়াজের কেজি দুর্মূল্যে পৌঁছে যাওয়ায় চিন্তিত মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষ। ভোজনরসিক বাঙালির খাবারে মসলাজাতীয় পেঁয়াজ ছাড়া একদিনও কল্পনা করা কঠিন! অথচ সাধারণ মানুষ এখন পেঁয়াজ খাওয়ার ক্ষেত্রে দিশাহারা হয়ে যাচ্ছেন। আমরা প্রত্যাশা করি জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার অতিদ্রুত পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।