সৌদিতে নারী শ্রমিক প্রেরণ

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সৌদিতে নারী শ্রমিক প্রেরণ

আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত থাকুক

সম্পাদকীয় ৯:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

print
সৌদিতে নারী শ্রমিক প্রেরণ

উন্নত দেশগুলোতে উন্নয়নশীল দেশ থেকে শ্রমশক্তি হিসেবে মানবসম্পদ প্রেরণ করার বিষয়টি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে পুরুষদের পাশাপাশি নারী জনশক্তি রপ্তানি করার বাস্তবতাটিও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সভ্যতার আদিকাল থেকে নারীর দুর্বলতাকে আঘাত করার যে পুরুষতান্ত্রিক ঘৃণ্য মানসিকতা, তা থেকে নিস্তার পায়নি এ সম্ভাবনাময় খাতটিও। এমন অসুস্থ চিত্র যে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্যই অসম্মানজনক।

সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূত্র ধরে দেশটিতে নারী শ্রমিক পাঠানোর যে প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছিল, তা প্রথমে আর্থিকভাবে লাভজনক হিসেবে গণ্য হলেও প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাওয়ার পর বর্তমানে আর প্রক্রিয়াটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সংসদে তোপের মুখে পড়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। গত মঙ্গলবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে তাকে একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এ সময় তাকে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের ওপরে যৌন নির্যাতনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের এক পর্যায়ে স্বাধীন দেশের মানসম্মান রক্ষায় সৌদি আরবে নারী শ্রমিক না পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এমপিরা দাবি করেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয় যে, নারীদের সম্ভ্রমহানির জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে। এর পরিবর্তে বেশি করে পুরুষ শ্রমিক পাঠানোর কথা বলেন তারা। নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে প্রশ্নে একজন সংসদ সদস্য বলেন, ‘সৌদি আরবে বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীদের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টসহ নানা ধরনের নির্যাতন করা হয়। এটা স্বীকৃত। এই অত্যাচারের কারণে অনেক নারীকর্মী সুযোগ পেলেই পালিয়ে যাচ্ছে, জেলখানায় যাচ্ছে এবং অনেক কিছু হচ্ছে। এজন্য বহিবিশ্ব থেকে আমাদের অনেক প্রশ্ন আসছে।

মন্ত্রীদের কাছে আমার প্রশ্ন এই যে, নারী কর্মীদের পাঠাচ্ছি তাদের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট থেকে বাঁচানোর জন্য, তাদের ইজ্জত সম্মানের সঙ্গে চাকরির জন্য- সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রকম উদ্যোগ নিয়েছেন কি-না?’ এমন প্রেক্ষিতে সৌদি আরবে নারী শ্রমিক প্রেরণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের নারীদের সম্মান ও সর্বোপরি দেশের সম্মান বিবেচনা করার জন্য আমরা সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।