ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত

অতন্দ্র প্রহরী সুন্দরবন

সম্পাদকীয়-১ ৯:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

print
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত

প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশকে প্রতিবছরই দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। সে ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ছিল প্রশাসনের। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ১৮ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। তৈরি ছিল মেডিকেল টিম, তুলনামূলক অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কোস্টগার্ড ছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছিল নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী।

তবে শেষ পর্যন্ত ততটা বর্ষায়নি এই ঘূর্ণিঝড়, যতটা গর্জে ওঠে শুরুতে অবস্থান জানান দিয়েছিল। ফলে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় প্রবেশের পর সেটি দুর্বল হয়ে যায়। সুন্দরবন থেকে এটি ঘূর্ণিঝড় আকারে বের হতে পারেনি।

পত্রিকায় প্রকাশ, কেন্দ্র থেকে যতটা উপকূলের দিকে আসছিল ততটাই গতি কম ছিল বাতাসের। তাতে করে যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ততটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অংশে আঘাত হানতে শুরু করে। তখন বাতাসের গতি ছিল ১২০ কিলোমিটারের মতো। বাতাসের তোড়ে তছনছ হয়ে যায় দুবলার চরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। তবে কারও মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উপকূলে আঘাত হানে বুলবুল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে সুন্দরবনের কারণে বিস্তৃত হতে পারেনি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ঘূর্ণিঝড়টি বনের ভেতর প্রবেশের পর দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় আবারও রক্ষা পেয়েছে উপকূলীয় জনগণ। ২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলাতেও একইভাবে এ অঞ্চলকে আগলে রেখেছিল সুন্দরবন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলে বাঁধের মতো। ঘূর্ণিঝড় প্রায় একশ কিলোমিটার প্রশস্ত এই বন পার হয়ে আসতে স্বাভাবিকভাবেই তীব্রতা হারিয়ে ফেলে।

সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত সহ্য করে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে এই জনপদকে রক্ষা করে। অথচ এই বনটিকে রক্ষায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আমরা এটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হওয়া প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়টি সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ দিয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশের অংশে এসে বনের মধ্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দুর্বল হয়ে গেছে। সুন্দরবনের গাছপালার মধ্যে ঝড়ের শক্তি হ্রাস পেতে থাকে। ফলে লোকালয়ে প্রবেশের আগেই এটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়।

সুন্দরবন বিশ্ব প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম শক্তি। অথচ তেলের ট্যাঙ্ক ডুবে জল দূষিত হওয়া, বিভিন্ন শিকারি ও বিধ্বংসী নানা শিল্প-উদ্যোগে বারবারই ধ্বংসের মুখে পড়েছে সুন্দরবন। আমরা প্রত্যাশা করি প্রাকৃতিক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সুন্দরবনের ভূমিকাকে বিবেচনা করে এখন থেকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।