মইন উদ্দীন খান বাদলের প্রয়াণ

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মইন উদ্দীন খান বাদলের প্রয়াণ

চিরস্মরণীয় এক মহান মুক্তিযোদ্ধা

সম্পাদকীয় ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

print
মইন উদ্দীন খান বাদলের প্রয়াণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন জাসদের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন মহান অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে হারাল। ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান জাসদ নেতা বাদল। দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।

৬৭ বছর বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ হৃদযন্ত্রের জটিলতায়ও ভুগছিলেন। মঈন উদ্দীন খান বাদলের মরদেহ শুক্রবার দেশে নিয়ে আসার পর প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয় জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে গত শনিবার। এ সময় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কফিনে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজা পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবু রায়হান। জানাজা শেষে যথাযোগ্য মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দীন খান বাদলকে। তারপর চট্টগ্রামে কয়েক দফা জানাজা শেষে বোয়ালখালীর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া মঈন উদ্দীন খান বাদল বোয়ালখালী উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদে অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তার।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা বাদল একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন দেশমাতৃকার জন্য। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের জন্য পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে খালাসের সময় প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বাদল সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। জাসদ, বাসদ হয়ে পুনরায় জাসদে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও বাদলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। সংসদেও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল তার। প্রতিটি সংসদ অধিবেশনেই থাকত তার সপ্রতিভ ক্ষুরধার বক্তব্য। আমরা জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তানের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।