ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য

ইতিবাচক সময়ের প্রতিধ্বনি

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

print
ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত তারল্য স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচকতা বয়ে আনে। সেই সঙ্গে মজুদ থাকা অতিরিক্ত তারল্য বিনিয়োগের মাধ্যমে আবারও ব্যাংকিংয়ে ফিরে আসার প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কেননা বাজারে অর্থ সরবরাহের তাগিদেই ব্যাংকগুলোতে তারল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। খোলা কাগজে প্রকাশ, ব্যাংকিং খাতে তারল্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নিত্যদিনের খরচ মেটাতে ‘আজ নয়, কাল আসেন’ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এখন আর এ ধরনের কথা বলতে হচ্ছে না।

নগদ টাকার সংকটে নতুন করে ঋণ দেওয়া যাচ্ছে না-এমন কথাও বলতে হচ্ছে না ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেই এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগযোগ্য অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আগস্ট মাস নাগাদ অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার কোটি টাকা। মে মাসে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।

এর বাইরে মে মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ ক্যাশ জমা (সিআরআর) ছিল এক লাখ ৮৬ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ব্যাংক খাতের এ তারল্য পরিস্থিতিকে ব্যাংকের জন্য ইতিবাচক মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে শিগগিরই ব্যাংকগুলোর এমন বক্তব্য দেওয়া লাগতে পারে উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যাংকে, ঋণ নেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্যাংকগুলোর কাছে বাড়তি টাকা থাকার কারণে আন্তঃব্যাংক লেনদেনও কমে গেছে। কমে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড জামানত হিসেবে রেখে ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি যে তহবিল বা রেপো নেয় সেটাও। ব্যাংকগুলোর কাছে যথেষ্ট টাকা থাকার কারণে এখন আর অন্য ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়া লাগছে না।

সর্বশেষ অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখে ব্যাংকগুলো বিশেষ তারল্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। তারও আগে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে নিয়েছে ৬৫৮ কোটি টাকা। কিন্তু তারল্য সংকটে থাকাকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো নেওয়ার পরিমাণ কোনো কোনো সময় হাজার কোটি ছাড়িয়ে যেত। ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আন্তঃব্যাংক লেনদেনও কমে গেছে। টাকা ধারের কড়াকাড়ি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আন্তঃব্যাংকের সুদ হারও কমেছে।

আর্থিক খাতে তারল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাণিজিক ব্যাংকগুলোর কারেন্ট অ্যাকাউন্টেও অর্থের পরিমাণ বেড়ে গেছে। সর্বশেষ ৯ অক্টোবরে ব্যাংক খাতের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে অর্থের পরিমাণ ২৩ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। তারল্য সংকটের কারণে এ অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকাতে ঠেকেছিল। ব্যাংকিং খাতের এ সুসময় বিনিয়োগ ও লাভের মাধ্যমে অব্যাহত থাকুক এবং পুনরায় ব্যাংকিং খাতে তারল্য ধরে রাখতে চক্রাকারে ফিরে আসুক, আমরা সে প্রত্যাশাই করি।