অগ্রাধিকার পাক কৃষিখাত

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অগ্রাধিকার পাক কৃষিখাত

শিল্পায়ন হোক যথাযথভাবে

সম্পাদকীয়-১ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

print
অগ্রাধিকার পাক কৃষিখাত

প্রাচীন পেশাগুলোর মধ্যে কৃষিকাজ অন্যতম। শুধু আমাদের দেশ নয়, পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশ কৃষিখাতের ওপর নির্ভরশীল। মানুষের নিত্যদিনের খাবারের চাহিদা পূরণে কৃষিখাতের অবদান অসামান্য। এরই মধ্যে একুশ শতকের নগরায়ণ, শহরায়ণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিজমি ও খাত উভয়ই সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতিতে রয়েছে। আমাদের দেশে চলমান উন্নয়ন এবং জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা পূরণে কৃষিজমি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিলেও তা আধুনিক হচ্ছে না। অথচ, কৃষিখাতের যেমন অগ্রাধিকার প্রয়োজন তেমনি যুগের চাহিদা মেটাতে শিল্পায়নও জরুরি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা উন্নত হব, শিল্পায়নে যাব। কিন্তু কৃষককে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। কৃষি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, খাদ্য দেয়, পুষ্টি দেয়, সবকিছু করে। কাজেই আমাদের দেশে উন্নয়ন প্রকল্প আমরা এমনভাবে নিই, যাতে কৃষকদের আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।’ প্রধানমন্ত্রীর এমন কথার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। এখনো দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ (৪৮ শতাংশ) কৃষিখাতের ওপর নির্ভরশীল। কাজেই এই বড় খাতটিকে এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং এখন সময় এসেছে কৃষিখাতকে আধুনিকীকরণের। এই খাত আধুনিক হলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আমাদের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।

কৃষি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পায়নও যে জরুরি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। যে কারণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে কৃষিখাতের উন্নয়ন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। যত্রতত্র শিল্পকারখানা যেমন তৈরি করা যাবে না, তেমনি আবাদী জমিও রাখতে হবে সুরক্ষিত। তাছাড়া, কৃষি জমি বাঁচাতে সরকারি যে আইন, বিধি বা নিয়মকানুন রয়েছে তাও মানতে হবে সবাইকে। আর, কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও মাথায় রাখতে হবে। কেননা, পুরনো পন্থা অবলম্বন করে চাষাবাদ করলে তার থেকে উৎপাদিত পণ্য ঠিকঠাকভাবে চাহিদা পূরণ না করতে পারে।

শিল্পায়ন-নগরায়ণ নিয়ে আমরা যত কথাই বলি না কেন, জৈবিক চাহিদা নিয়েই আমাদের আগে ভাবতে হয়। আর এর প্রথম তালিকায় আছে খাদ্য। আর খাদ্যের চাহিদা পূরণ করছে কৃষিখাত। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও অনেক পণ্যে আমাদের ঘাটতি রয়েছে। যে সব খাদ্যদ্রব্য বা শস্য আমাদের এখনো বিদেশ থেকে আনতে হয়, তা নিজেদের মাটিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করলেই সবচেয়ে ভালো হয়। শিল্পায়নের লক্ষ্য পূরণে যেমন অর্থনৈতিক জোন বানানো হয়েছে, ঠিক তেমন বিপুল আবাদী জমি নিয়ে কৃষিজোন গড়ে তুলতে হবে। যেখান থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণসহ পণ্য রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। সর্বপরি, সভ্যতার আধুনিকীকরণের আমাদের কৃষিখাতও উন্নত হোক, এটাই চাওয়া।