সক্রিয় মানবপাচার চক্র

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সক্রিয় মানবপাচার চক্র

সজাগ থাকতে হবে প্রশাসনকে

সম্পাদকীয় ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

print
সক্রিয় মানবপাচার চক্র

বিদেশের মাটিতে মানবপাচারের দৃশ নতুন কিছু নয়। এই প্রক্রিয়া ঘিরে অনেক লোক জড়িত ছিল, এখনো আছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশে শ্রমিক নেওয়া হলেও অনেকেই দালাল, পাচারকারী কিংবা তৃতীয় পক্ষ ধরেও উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা করে। অনেকে পাচারকারীর পাল্লায় বিপুল টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে অনিরাপদ জীবনযাপন করে। অনেকেই অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসে। অনেকেই আবার বিপদগ্রস্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়। আর মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানবপাচারে জড়িত কতিপয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও বাইরে থেকে যায় সংখ্যাগরিষ্ঠরা।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত কয়েক মাসে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের উপকূলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পৌঁছেছে। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে আশ্রিত ছিল। মূলত শীতের সময় সমুদ্র শান্ত থাকার সুযোগ নিয়ে নৌকায় করে অবৈধভাবে তাদের পাচার করা হয়েছে। এদের অনেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছে। আর আসন্ন শীতে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টা আরও ব্যাপক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবং সীমান্ত রক্ষীদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, যাই হোক না কেন অবৈধ পথে বিদেশ গিয়ে যে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না তা সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা মানুষের কথা ভাবলেই বোঝা যায়।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দেশে বিদেশে থাকা অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তিই মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত আছে। এরা এখন সময়ের অপেক্ষা করছে। আসন্ন শীতকালে সমুদ্রে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করায় মানবপাচারকারী সক্রিয় হয়ে উঠছে। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের অনেক দেশে সমুদ্র ব্যবহার করে মানবপাচারের প্রক্রিয়া চলছে। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে মিয়ানমারের ভূমিপুত্র রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশে আশ্রিত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন মানবপাচারকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। একাধিক রোহিঙ্গা এরই মধ্যে মানবপাচারকারীর সহায়তায় বিদেশে গিয়ে আবার ফিরেও এসেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনোভাবেই কেউ যে অবৈধ পথে বিদেশ যেতে না পারে সে জন্য পাচারকারীদের আগে ধরতে হবে। এদের মাধ্যমে যেমন দেশের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বিদেশের মাটিতে সুনামও নষ্ট হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, পাচারকারীদের রুখতে সরকার এবং প্রশাসন উভয়ই আরও সচেতন এবং সক্রিয় হবে।