জাবি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাবি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

সংকটের সমাধান হোক

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

print
জাবি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অবিস্মরণীয় ভূমিকা রয়েছে। সময়োপযোগী জ্ঞানচর্চার ভিত্তিতে মেধা ও মননশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠা এ বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধারণ করে আপন অস্তিত্বকে সগৌরবে জানান দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই, কিন্তু কেন যেন এ বিশ্ববিদ্যালয়টির পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। বিভিন্ন সময়েই নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তার পথচলা স্বাভাবিক রাখতে হয়েছে। বর্তমান সময়েও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় চরম অস্থিরতার মধ্যে ডুবে রয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশ, দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ৫ নভেম্বর বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের প্রতিটি কক্ষে গিয়ে বারবার এ নির্দেশ দেয় হল প্রশাসন। তবে হল ছাড়ার এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ফের হামলার আশঙ্কা করছেন আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপদ রাখতে অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষার্থী বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এদিকে হল খালি করার এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা বলছেন, হঠাৎ হল ছাড়ার এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন তারা। সামনের মাসেই তাদের ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পড়াশোনা বাদ দিয়ে তাদের এখন বাড়ির পথে রওনা দিতে হচ্ছে। যদিও হল ছাড়ার এ সিদ্ধান্তে সাড়া দেয়নি জাবি ছাত্রলীগ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করলেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তারাও ক্যাম্পাসে থাকছেন।

এদিকে হামলার ঘটনার পর জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগ দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করেছে, আমি কৃতজ্ঞ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আছে, তিনি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া মঙ্গলবারের হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেছেন, ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। চেষ্টা করেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। বড় ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর আছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত এ পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসুক আমরা সেটিই প্রত্যাশা করি। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।