পাল্টে যাচ্ছে ঋতুচক্র

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পাল্টে যাচ্ছে ঋতুচক্র

ঝুঁকি এড়াতে পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

print
পাল্টে যাচ্ছে ঋতুচক্র

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এ বদ্বীপে একেক ঋতু একেক বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। আবহমান কাল ধরেই কোনোরকম ছন্দপতন ছাড়া একে একে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর চক্রে পার হতো প্রতিটি বছর। কিন্তু বিগত কয়েকটি বছর ধরে ঋতুচক্রের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ম মানছে না। ছয় ঋতুর বদলে গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীতই যেন প্রধান হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা ঘটছে। এর ফলে আগামীতে জলবায়ু পরিবর্তনের অস্বাভাবিক ঝুঁকিতে পড়বে দেশ এবং পাল্টে যাবে খরা ও বৃষ্টিপাতের ভূগোল।

পত্রিকায় প্রকাশ, বাংলাদেশের জলবায়ু নিয়ে এক গবেষণা বলছে, আগামী বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমেই বাড়বে। বৃষ্টির ভূগোলও বদলে যাবে। সিলেটের লালখানের পরিবর্তে বেশি বৃষ্টি হবে দিনাজপুর ও রাজশাহীতে। বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিধি বাড়বে গ্রীষ্ম ঋতুর। এ ছাড়া বরগুনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বাড়বে খরা প্রবণতা।

আগামী ১০০ বছর বাংলাদেশের জলবায়ু পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে গবেষণা করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়াংসান বিশ^বিদ্যালয় ও এশিয়া প্যাসিফিক ক্লাইমেট সেন্টারের একদল বিজ্ঞানী। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মিলন। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আবহাওয়ার নথি পর্যালোচনা করেন তারা।

এ গবেষণা বলছে, আগামী ১০০ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। সিলেটের লালখানের পরিবর্তে বেশি বৃষ্টি হবে দিনাজপুর ও রাজশাহীতে। তবে শঙ্কার কথা বাড়বে শুষ্ক দিনের পরিমাণ। ফলে খরায় হুমকিতে পড়বে কৃষি। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যেও মিলছে এর সত্যতা। গত দুই বছর দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নেত্রকোনায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০টি দেশের ২৯টি জলবায়ু মডেলকে ভিত্তি ধরে এ গবেষণা চালানো হয়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আগামীতে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে উত্তরাঞ্চলে। ২০৪০ সাল পর্যন্ত ২৫ শতাংশ, ২০৭০ সালের মধ্যে ৩৬ এবং ২০৯৯ সাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বাড়বে সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ। এর ফলে দেখা দিতে পারে আগাম বন্যা।

গবেষক দলের প্রধান কামরুজ্জামান মিলন জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের শঙ্কা বেশি থাকায় বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ওই অঞ্চলসহ গোটা দেশ। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লেও খরার হুমকিও রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। সেহেতু আমাদের সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই।

এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বজায় রাখার পাশাপাশি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আলোকে জলবায়ুর ক্ষতি হ্রাসে বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।